advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মিয়ানমারের উসকানি
ফাঁদে পা না দিয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে

২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৪৮ এএম
advertisement

মিয়ানমারের দিক থেকে উসকানিমূলক তৎপরতা এখনো বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশ সরকার বারবার তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কঠোর বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও মিয়ানমারের সামরিক সরকার কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহই দেখাচ্ছে না। রাখাইন রাজ্যে তাদের সামরিক বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা চলতে থাকলে পুনরায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বাড়বে। যদিও সরকার এবার শক্ত অবস্থানে থাকার কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে নির্মম সামরিক অভিযানের মুখে পলায়নপর অসহায় মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কতটা সম্ভব হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রথম থেকেই বাংলাদেশ নমনীয় ভূমিকা গ্রহণ করায় মিয়ানমার তাদের আক্রমণাত্মক ভূমিকা বদলায়নি। ফলে আরও বাড়তি রোহিঙ্গার চাপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

advertisement 3

এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ওদের গোলা এসে পড়েছে, যার আঘাতে প্রাণহানিও ঘটেছে। এ ছাড়া গোলার শব্দের অভিঘাতে অনেক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ৩০০ পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ৫ বছর ধরে চেষ্টা করেও তাদের একজনকেও ফেরাতে পারেনি। মিয়ানমার সরকারের মনোভাব এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নেতিবাচক তা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে নজর দেওয়া দরকার।

advertisement 4

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শরণার্থীদের প্রতি যে মানবিক দরদি মনের পরিচয় দিয়েছেন তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এ কারণে তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বা মানবতার জননী খেতাবও অর্জন করেছেন। কিন্তু এই মানবিক ভূমিকার প্রতি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কোনোরকম মর্যাদাবোধ নেই। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন মানবতা প্রদর্শনের পাশাপাশি আমাদের যে শক্তি রয়েছে সেটা বোঝানোও দরকার ছিল। অর্থাৎ গোড়া থেকেই মিয়ানমারের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখানোই উচিত ছিল। ৫ বছর পর সংকটের মূল্যায়ন করলে কূটনৈতিক তৎপরতা থেকে কোনো সাফল্য এসেছে বলে মনে হয় না। কোনো বন্ধুরাষ্ট্রই কার্যকর সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। জাতিসংঘের দিক থেকেও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় দেশটির সামরিক সরকার যেন বর্তমানে শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ তাদের উসকানিতে পা দিয়ে যুদ্ধে জড়াতে চায় না, আবার নতুন করে আরও শরণার্থী গ্রহণেও রাজি নয়। ফলে যুদ্ধে না জড়িয়েও নিজেদের শক্তি সম্পর্কে জানান দেওয়া যেমন দরকার, তেমনি সমস্যা সমাধানে শক্ত অবস্থানটিও বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বোঝা প্রয়োজন যে, আমাদের সমস্যা সমাধানে আমাদেরই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

advertisement