advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দামে কারসাজি
অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা

আবু আলী
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:২০ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

সরকারের নানা উদ্যোগেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আসছে না। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মনে করে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারসাজির জন্যই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানিগুলো সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছে। সে জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন স্বপ্রণোদিত প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা করেছে।

প্রতিযোগিতা কমিশন আইনের ১৫ ও ১৬ ধারায় এসব মামলা হয়েছে। ধারা ১৫-তে বলা হয়েছে, বাজারে প্রভাব বিস্তার করে একপক্ষীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তারা শাস্তির আওতায় আসবে। আর ধারা ১৬-তে বলা হয়েছে, কোনো পণ্যের বাজারজাত বা উৎপাদনে শীর্ষে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পণ্যের দামে কারসাজি করলে সেই অপরাধও শাস্তিযোগ্য। সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কমিশনের তরফ থেকে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য চালের ১৯ কোম্পানি, আটা-ময়দার ৮ কোম্পানি, ডিম উৎপাদনকারী ৬ কোম্পানি, ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনকারী ৬ কোম্পানি ও গুড়া সাবানের ৫ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

advertisement 3

জানা গেছে, চালের বাজারে সংকট সৃষ্টির জন্য কুষ্টিয়ার রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও নওগাঁর বেলকন গ্রুপের বেলকন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের নামে মামলা হয়েছে। একই কারণে বাজারে চাল সরবরাহকারী আরও দুটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে আটা-ময়দার বাজারেও সংকট তৈরির অভিযোগে সিটি গ্রুপের নামে পৃথক মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। ডিমের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড, কাজী ফার্মস গ্রুপ ও ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মুরগির বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড ও কাজী ফার্মস গ্রুপের নামে। এদিকে বাজারে কাপড় কাচা, সুগন্ধী ও গুঁড়া সাবানের মতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে মামলা হয়েছে।

advertisement 4

জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে দেশে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অতিরিক্ত মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এদের কাছে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়ছেন। সিন্ডিকেট ভেঙে দিতেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, আগামী ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হবে। এর আগে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৭ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে। তারা বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। টাস্কফোর্স থেকে হাইকোর্টে পাঠানো প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের আমদানির তথ্য সংগ্রহ এবং মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শুল্ক স্টেশনসমূহ কর্তৃক রমজানের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ফেরি পারাপারে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণসহ যে কোনো পর্যায়ে যেন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব অনুরোধ করা; আন্তর্জাতিক বাজারদর সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা; রিফাইন্ড সয়াবিন/পামঅয়েল তেল আমদানি বৃদ্ধি উৎসাহিত করতে শুল্ক/ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ করা; ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা-উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; নিত্যপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ কর্তৃক অগ্রাধিকার প্রদান; খুচরা পর্যায়ে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং প্রতিটি ধাপে পাকা রসিদ সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিতকরণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয় পাইকারি থেকে খুচরা সব পর্যায়ে পাকা রসিদ (প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানাসহ মুদ্রিত তথ্য) প্রধান নিশ্চিত করার জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা-উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।

advertisement