advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা লুট করে ‘শাহীন পুলিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৯ পিএম
advertisement

গোলাম মোস্তফা শাহীন ওরফে শাহীন পুলিশ (৫০) ছিলেন সাবেক কনস্টেবল। ২০০৮ সালে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে চাকরিচ্যুত হন। ডাকাতি, ছিনতাই ও অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২০টি। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যান তিনি। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় গাড়িতে তুলে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন শাহীন। এর ১৮ দিন পর শাহীনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরা, কলাবাগান ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

advertisement 3

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মো. শাহাদৎ হোসেন, সাইদ মনির আল মাহমুদ, রুবেল ইসলাম ও জাকির হোসেন (৩৫)। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই-ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাডো গাড়ি, ছিনতাই করা নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাপ, দুটি কালো কটি, একটি স্টিলের লাঠি, হাতুড়ি, প্লায়ার্স, স্পার্কার (পিস্তলসদৃশ বস্তু) ও একটি র‌্যাত জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

advertisement 4

গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, এই চক্রের মূলহোতা গোলাম মোস্তফা শাহীন। তিনি পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। ২০০৮ সালে অনৈতিক কাজে চাকরি হারিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতিতে লিপ্ত হন। তার নেতৃত্বে রাজধানীতে সংঘটিত হয় ডাকাতি। অনেক সময় ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ছিনিয়ে নিতেন শাহীনের লোকজন। কেউ যদি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে

বের হতেন, তখন শাহীনের লোকেরা মোটরসাইকেলে তাকে ফলো করতেন। এর পর নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে সর্বস্ব লুটে নিতেন তারা।

গোয়েন্দা প্রধান জানান, চক্রটি ডাকাতিতে একটি প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করত। গাড়িটিতে একেক সময় একেক নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হতো। আবার কখনো কখনো একই গাড়িতে বিভিন্ন ধরনের রং করিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে চলত ছিনতাই-ডাকাতি। শাহীন চাকরিচ্যুত হওয়ার পর চুরি-ছিনতাইকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ডাকাতির কাজে যে গাড়িটি ব্যবহৃত হতো সেটি একজন নামকরা ইঞ্জিনিয়ারের। কিন্তু গাড়িটি তিনি তার চালকের কাছে কেন দিয়ে রেখেছিলেন এর তদন্ত চলছে। ওই ইঞ্জিনিয়ারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কেউ যদি জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে চিৎকার করে আশপাশের মানুষকে জড়ো করার পরামর্শ দিয়ে হারুন অর রশীদ বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকার তদন্ত করতে নেমে পল্টন মডেল থানার জোনাকি সুপার মার্কেট এলাকা থেকে আরও একটি ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। তারা হলো ইমরান হোসেন শাহীদ, হিরা ব্যাপারী, জাবেদ আহমেদ বাবু, আরিফ ইকবাল ও আবুল খায়ের রানা। তাদের কাছ থেকে চাপাতি, ছুরি, একটি রেত ও হাতুড়ি জব্দ করা হয়।

ডিবি রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মিশু বলেন, ডিএমপির পল্টন মডেল থানার জোনাকি সুপার মার্কেটসংলগ্ন মসজিদ গলিতে কয়েকজন লোক ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে এ তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে শাহীন, হিরা, বাবু, আরিফ ও রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করেন এবং সড়কে ডাকাতি করে থাকেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

advertisement