advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বেতন বাড়ছে সাবিনাদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৯:৪১ এএম
advertisement

বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবলে যখন তলানিতে তখন বাংলাদেশের মেয়েরা আলো ফোটালেন। প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন কররেন সাবিনা খাতুনরা। তাদের দেশে ফেরাটাও ঐতিহাসিক হয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দল ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করল। আনন্দোৎসব করেছে সকল শ্রেণির মানুষ। কয়েক বছর ধরে আমাদের আনন্দের উৎস ছিল মূলত ক্রিকেট ঘিরেই। ফুটবলে সাফল্য আসছিল না। হতাশার মধ্যে গৌরবময় সাফল্য বয়ে আনলেন মেয়েরা। দেশকে আনন্দ ও গৌরব করার মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তারা। সাবিনা, রুপনা চাকমা, আঁখি খাতুন, মাসুরা পারভীন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, সানজিদা আক্তার, কৃষ্ণা রানী সরকার, সিরাত জাহান স্বপ্নারা অসাধারণ ফুটবল খেলে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। এখন ব্র্যান্ডিং হচ্ছে নারী ফুটবল।

পুরুষ ফুটবলের মতো সেভাবে সুযোগ-সুবিধা পান না নারী ফুটবলাররা। বিশেষ করে তাদের আয়ের উৎসও সীমিত। এ ছাড়া সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার বাধা পেরিয়ে কঠোর পরিশ্রমে সাফল্য পেয়েছেন মেয়েরা। অবশ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ফুটবলে নতুন জাগরণ আনলেন তারা। এরই মধ্যে নারী ফুটবল ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বিপক্ষে সাবিনাদের খেলানোর চেষ্টা করছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। গতকাল বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, নারী ফুটবলারদের মাসিক সম্মানী বাড়াবেন। তিন ক্যাটাগরিতে সম্মানী পান বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলাররা। ৮ হাজার, ১০ ও ১২ হাজার টাকা করে সম্মানী পান তারা। সাবিনাদের সম্মানী বাড়ানোর দাবিতে আশ্বাস দিয়েছে বাফুফে। ২০০৯ সাল থেকে নারী দল নিয়ে কাজ করছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। সম্মানী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দিনের অধিকাংশ সময় ফুটবলেই দিই। বাসায় মেহমান হিসেবেই থাকি। মাস শেষে আমাদের সম্মানী বাড়লে, বাসায় সম্মানও বাড়বে। সাবিনাদের সঙ্গে আমাদের বিষয়টিও সভাপতি মহোদয় বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।’ নারী ফুটবলারদের সম্মানী ছাড়াও অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে বাফুফে। এরই মধ্যে সাফজয়ী ফুটবলারদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমি-ফ্ল্যাট চাইবে বলে জানিয়েছেন নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। সাবিনারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা। তাদের ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানান, ‘আমরা ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছি। আগামীকালের (আজ) মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।’ সাবিনাদের সাফল্যে সমাজের কীর্তিমান নারী বলেছেন, প্রতিকূল পরিবেশেও যে এগিয়ে যেতে পারে মেয়েরা, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে সেই উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তারা। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের সম্মান উজ্জ্বল করেছেন নারী ফুটবলাররা। অধিকারকর্মী মালেকা বানু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নারী ফুটবল দলের এই শিরোপাজয় শুধু খেলার মাঠের সাফল্য নয়, সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ারও বড় উদযাপন।

advertisement 3
advertisement