advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কে এই সুস্মিতা?

মাজেদ হোসেন টুটুল
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৫৮ পিএম
সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। পুরোনো ছবি
advertisement

ইন্টারনেটে শুধু ‘সুস্মিতা’ লিখে সার্চ দিলে স্ক্রিনজুড়ে ভেসে আসে সাবেক মিস ইউনিভার্স ও বলিউড তারকা সুস্মিতা সেনের বাহারি ছবি আর বায়োগ্রাফি। তবে সুস্মিতার সঙ্গে চট্টোপাধ্যায় যোগ করলে মনিটর রঙিন হয়ে ওঠে এই সময়ের ক্রেজ সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতে; সম্প্রতি যাকে নিয়ে হইহই রব চারদিকে। পশ্চিমবঙ্গের মফস্বল শহর আসানসোল থেকে উঠে আসা নজরকাড়া এই সুন্দরীর কালো চোখের মায়াবী চাহনি আর রূপ-লাবণ্যে বুঁদ পুরো সিনেপাড়া। কে এই সুস্মিতা? শোবিজ জগতে আগমন উল্কার বেগে। এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন- এ রকমটাই বলা যায় সুস্মিতার বেলায়। সম্প্রতি পূজা উপলক্ষে পশ্চিমা পোশাকে সনাতনী চেহারার আবেদনময়ী বেশ কিছু ছবি ঝড় তোলে বিনোদন দুনিয়ায়।

কলকাতার প্রখ্যাত মেকআপ আর্টিস্ট অনিরুদ্ধের সঙ্গে সুস্মিতার করা ফটোশুটের কিছু ছবিতে চোখ পড়ে চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের গায়ক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের। অনিন্দ্য উঠতি পরিচালকও বটে। সুস্মিতার ছবিগুলো দেখে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আর এতেই শুরু হয় সুস্মিতার পরবর্তী পথচলা। সুযোগ মেলে ‘প্রেম টেম’ সিনেমায়। রূপের জাদু আর দুর্দান্ত অভিনয়ে মুগ্ধ করেন সবাইকে। ২০১৯ সাল থেকে টুকটাক মডেলিং করলেও সেভাবে লাইমলাইটে আসেননি। যখনই সুযোগ পেয়ে যান, সেটিকে কাজে লাগান সুস্মিতা।

advertisement 3

অনেক দূরের জেলা আসানসোল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে আসেন কলকাতায়। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে চাকরিও পেয়ে যান। কিন্তু সিনেজগৎ যার ধ্যান-জ্ঞান তিনি কি আর চাকরিতে থিতু হতে পারেন? মফস্বল থেকে উঠে আসা একটি মেয়ের জন্য মডেলিংয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অতটা

advertisement 4

সহজ ছিল না। অনেকেই সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুতেই হার মানেননি বা নতজানু হননি সুস্মিতা। নিজের প্রতি আস্থা ছিল আর ছিল আত্মবিশ্বাস। প্রথম সিনেমা ‘প্রেম টেম’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর হইচইয়ে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মারাদোনার জুতা’। এটিও বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে সাফল্যের পথে। সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে সবাই এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন সুস্মিতাকে।

চারদিক থেকে ভেসে আসা প্রশংসামালা এক নবাগত নায়িকার

জন্য বিরাট প্রাপ্তিই বলা যায়।

‘প্রেম টেম’-এর সাফল্যের পরই টালিগঞ্জে সবার নজরে আসেন। সব ঝঞ্ঝা আর প্রতিকূলতা পাশ কাটিয়ে একের পর এক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সুস্মিতা। অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর পরিচালনায় দেবের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। সেখানে সুস্মিতার ঝকঝকে অভিনয় ভালো লাগে সুপারস্টার দেবের। ঘরের ছবি ‘কাছের মানুষ’-এ সুস্মিতাকে নেন দেব। প্রসেনজিতের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অভিনয়; সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে ‘পাকা দেখা’-য় কাজ করা; অরিন্দম শীলের ‘খেলা যখন’-এ মিমি চক্রবর্তী আর সুদেষ্ণা রায়-অভিজিৎ গুহর ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালি’-তে নুসরাত জাহানের সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন সুস্মিতা। দুটি ছবিই মুক্তির অপেক্ষায়। আর ছবিগুলো যে সাফল্য পাবে, তা বলা যায় নিশ্চিতভাবেই।

সম্প্রতি সুস্মিতা হাজির হয়েছেন ওয়েব সিরিজ নিয়ে। তরুণ নির্মাতা মৈনাক ভৌমিকের ‘মারাদোনার জুতো’ প্রকাশ পেয়েছে হইচইয়ে। ছয় পর্বের এ ওয়েব সিরিজে সুস্মিতার নাম হিয়া। পেশায় ফ্যাশন ব্লগার। সাজগোজ নিয়ে ভিডিও তৈরি করে। এক জোড়া জুতো নিয়ে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব, তার মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা- সব মিলিয়ে জমজমাট এ সিরিজ সুস্মিতাকে অনেকটা পথ এগিয়ে দিয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় বা খোলামেলা পোশাক পরতে আপত্তি নেই তার। তবে সস্তা জনপ্রিয়তা আর ফলোয়ার বাড়াতে খোলামেলা পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়ার প্রতি আগ্রহী নন তিনি। তার ধ্যান-জ্ঞান সবই অভিনয় নিয়ে। আর অভিনয়ের মাধ্যমেই চান সবার মন জয় করতে। কমনীয় চাহনি আর আকর্ষণীয় সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্দান্ত অভিনয় দিয়েই দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে নিতে চান মফস্বলের লাস্যময়ী সুন্দরী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়।

advertisement