advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আ. লীগের সাধারণ সম্পাদককে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:২০ পিএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৩২ এএম
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির। পুরোনো ছবি
advertisement

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নেতাকর্মীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার দায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরকে শোকজ করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে গতকাল শুক্রবার বিকেলে চকবাজার থানায় দলীয় কর্মসূচি করার চেষ্টা করা এবং লালবাগ থানা সম্মেলনে সাংগঠনিক রীতি বহির্ভূত শব্দ ব্যবহার করায় দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক তাকে শোকজ করা হয়। এতে কারণ দর্শানোর চিঠির জবাব ১৫ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

advertisement 3

জানা গেছে, গতকাল বিকেলে রাজধানীর নবকুমার ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মঙ্গলবার লালবাগে কর্মীদের ‘শোয়রের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়ায় এখনো ক্ষোভ বইছে কর্মীদের মধ্যে। এই ক্ষোভের প্রভাব চকবাজারের সম্মেলনে পরবে এমন শঙ্কা থেকে সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র।

advertisement 4

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ আমাদের সময়কে বলেন, ‘ঢাকা বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ভাই আমাকে ফোন করে সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশনা দেন। আমি বিষয়টি মহানগণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানাই। এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিদেরও সম্মেলন স্থগিত হওয়ার বিষয়টি জানাই। এমন খবরে কেউ সম্মেলনে আসেননি।’

কেন্দ্রের এমন আদেশ কর্নপাত করেননি সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর। তিনি উল্টো বলেন, সম্মেলন করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই সম্মেলন আর হয়নি। মহানগরের কিছু নেতা এবং থানা ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ছিলেন। সেখানে হট্টগোল ও হাতাহাতি হয়।

জানা গেছে, লালবাগ ও চকবাজার থানা নিয়ে ঢাকা-৭ আসন। এই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা গ্রুপিং ও কোন্দল বিরাজ রয়েছে। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বহুল আলোচিত হাজী সেলিম। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচন করতে চান প্রায় অর্ধডজন নেতা। মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীরও। ফলে যেকোনো দলীয় আলোচনা বা সম্মেলন ইস্যুতে একটি গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। বাকীরা নানা ইস্যুতে ওই আসনের দ্বিধা বিভক্তির চিত্র স্পষ্ট করেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীরের মধ্যে থেকে দ্বিধা-বিভক্তি রয়েছে। বিগত সময়ের দুজনের অনুসারীরা ভাগ হয় হট্টগোল ও হাতাহাতি করতে দেখা গেছে।

গত মঙ্গলবার লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই এসব নেতাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি ও হট্টগোল হয়। মঞ্চে ধাক্কাধাক্কিও হয়। এমতাবস্থায় মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে অন্য গ্রুপের নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন হুমায়ুন কবীর। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

এমতাবস্থায় শোকজ পেতে পারেন এমন আগাম খবরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হাজির হন হুমায়ুন কবীর। সেখানে তাকে একাকি বসে থাকতে দেখা যায়। জানতে চাইলে হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, শোকজ যে কাউকে দেওয়া যেতে পারে। এরপর আর তেমন কোনো কথা বলেননি তিনি।

advertisement