advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নয়াপল্টনে মির্জা ফখরুল
শাওন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কর্তৃত্ববাদী সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে শাওন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওনের জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

advertisement 3

ফখরুল বলেন, শাওনের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। সরকার পতনের মধ্য দিয়ে শাওন হত্যার বিচার করব। সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

advertisement 4

গত বুধবার বিকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন, জাহাঙ্গীরসহ তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মারা যান শাওন।

জানাজার আগে বিএনপি নেতারা শাওনের লাশ হস্তান্তর নিয়ে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, লাশ না পাওয়ায় পূর্বনির্ধারিত বাদ জুমা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শাওনের জানাজা করা যায়নি। ময়নাতদন্তের নামে লাশ প্রদানে গড়িমসি শুরু করে পুলিশ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায়

যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন। দুপুরে জানাজায় অংশ নিতে আসা নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

লাশ দিতে গড়িমসি করার সমালোচনা করে বিকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বারবার যোগাযোগ করলেও যুবদলকর্মী শাওনের লাশ হস্তান্তর করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোনো শীর্ষ মহলের নির্দেশের কারণে লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে না বলে মনে করছি আমরা।

বিকালে শাওনের মরদেহ গ্রহণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুবদলের নেতারা ঢামেকে ভিড় করেন। সন্ধ্যার আগে তারা শাওনের লাশ বুঝে পান। এরপর তার লাশ নেওয়া হয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে তার প্রথম জানাজা হয়। পরে তার লাশ মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা শেষে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়।

জানাজায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু প্রমুখ।

রাজধানী ঢাকার বাইরে সারাদেশের জেলা শহরে বাদ জুমা শাওনের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি।

advertisement