advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডাকসু নির্বাচনে সংগঠনগুলো আগ্রহী, অনীহা প্রশাসনে

মেহেদী হাসান
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ। পরে বর্ধিত মেয়াদের ৯০ দিনও শেষ হয় ২০২০ সালের ২০ জুন। এর পর করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্পাস খোলার পর সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের কোনো আগ্রহ বা তৎপরতা নেই। বিভিন্ন কর্মসূচি, স্মারকলিপি ও পরিবেশ পরিষদের মিটিংয়ের মাধ্যমে সবসময় ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম সিনেটেও এ দাবি উত্থাপন করেছেন ডাকসুর

advertisement 3

সর্বশেষ ভিপি নুরুল হক নুর। বার বার দাবি জানানোর পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন কবে হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

advertisement 4

সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের অধিকার। এটিকে তারা ক্যালেন্ডার ইভেন্ট হিসেবে চান। করোনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন নির্বাচন হলেও ডাকসু নির্বাচনে উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এখন সবকিছু সচল থাকায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের দাবি তাদের।

শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও নির্বাচন বিষয়ে সুমাইয়া আফরিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ডাকসু এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে তৎকালীন ডাকসু। এখান থেকে বাংলাদেশের ডায়নামিক, মেধাবী ও সৃজনশীল নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। যুগে যুগে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ তার স্বাক্ষর রেখে গেয়েছেন। বহু জল্পনা-কল্পনা শেষে দীর্ঘ ২৮ বছর পর সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়। মহামারীর কারণে পৃথিবী যেমন স্থবির হয়ে আবার জেগে উঠেছে, ডাকসু নির্বাচনও সেভাবেই আবার হোক- এটাই প্রত্যাশা করি।

শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য ডাকসু নির্বাচন দরকার বলে মনে করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসের ইতিবাচক অনেক পরিবর্তন হয়, অনেক সমস্যা নিয়েই আলোচনা হয়েছে, কিছু সমাধানও হয়েছে, যা আগে হয়নি। তাই আবারও ডাকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ফিরে পাবে, একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়েরও সামগ্রিক উন্নতি ঘটবে।

ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা সর্বশেষ পরিবেশ পরিষদের মিটিংয়েও ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। আমরা বলেছি পরিবেশ পরিষদের মিটিং না ডেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দিতে। ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে আমাদের দাবি অব্যাহত রয়েছে। তবে গতবারের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নয়। একটি সুন্দর, সুস্থ ও সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করে নির্বাচন চাই আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বর্তমান যে সংকট, তার একমাত্র সমাধান হতে পারে ডাকসু।’

ডাকসুর সাবেক নেতারা বলছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের চরম অনীহা রয়েছে। ২৮ বছর পর যে নির্বাচন হয়েছে সেটিও নানান অজুহাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়। লিখিত কিংবা মৌখিক কোনো বিবৃতি দেয়নি প্রশাসন। সর্বশেষ ডাকসুর পঞ্চাশ শতাংশ তহবিল এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে বলে দাবি তাদের। ডাকসু থাকলে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ থাকে। সে সুযোগটি বন্ধ রাখতে এবং একক নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় চালাতেই ডাকসু নির্বাচন দিচ্ছে না প্রশাসন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি- দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু হয়েছে, যে কোনোভাবেই হোক ছাত্রদের আর তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। আমরা দেখেছি করোনা মহামারীর মাঝেও শিক্ষক সমিতিসহ আরও বিভিন্ন নির্বাচন হয়েছে; কিন্তু ডাকসু নির্বাচন হয়নি। এখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা আশা রাখি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের একটা বিষয় হচ্ছে- সরকার চায় না বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকুক। তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের দেশের এটা কমন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চাপে না পড়লে কেউ কাজ করতে চায় না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছাত্র সংগঠনগুলো আছে তাদের মাধ্যমে জনমত তৈরি করতে হবে এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে আন্দোলন করতে হবে। এর পরই বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নিয়ে কাজ করবে।’

ডাকসুর সাবেক এজিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা সবসময় চাই শিক্ষার্থীদের একটি আইনগত প্ল্যাটফরম থাকবে এবং গণতান্ত্রিকভাবে সেটি পরিচালিত হবে। এর জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সবসময় তাগাদা দিয়ে আসছি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পেছনে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল ছাত্রলীগ। আমরা আবারও প্রত্যাশা করি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।’

ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন খুবই প্রত্যাশিত একটি বিষয়। নেতৃত্ব ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার জন্য এগুলো ভূমিকা রাখে। এটি আয়োজনের জন্য সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতা থাকা যেমন প্রত্যাশিত, তেমনি পুরোপুরি জাতীয়ভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার সংস্কৃতিও শক্তিশালী করা জরুরি। এটি একটি বড় ধরনের কর্মপ্রয়াস। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এ ধরনের বড় কর্মপ্রয়াস গ্রহণ করতে হয়। আমরা যখন ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করব, তখন জানিয়ে দেব।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের ২৩টিতেই জয় পায় ক্ষমতাসীন দলের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগ। শুধু ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয় পায় ছাত্র অধিকার পরিষদ।

advertisement