advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জমজমাট পূজার বাজার

লাবণ্য লিপি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

মহালয়ার মধ্য দিয়ে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজায় শুরু হয়ে পাঁচ দিনের উৎসব শেষ হবে ৫ অক্টোবর দশমীর দিনে। পূজা উপলক্ষে এরই মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে ফ্যাশনপাড়া। নতুন পোশাক কিনতে আসা ক্রেতার ভিড়ই বলে দিচ্ছে গত তিন বছর করোনা মহামারীর কারণে উৎসবে ঘরবন্দি থাকলেও এবার আয়োজন জমে উঠবে। রাজধানীর রেডিমেড পোশাকের মার্কেট ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সে বার্তাই দেয়।

advertisement 3

এবার আমি কিনব তিনটি জামা। একটি কিনব লেহেঙ্গা, একটা টপ আর একটা সালোয়ার-কামিজ। বলছিল পূজার কেনাকাটা করতে আসা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী হিয়া। সঙ্গে ওর বাবা-মা ও ভাই রুদ্র। হিয়া আরও বলে, এবার তারা পূজার সময় ওর দাদুরবাড়িতে যাবে। তাই সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছে। হিয়াদের পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবার, ছোট-বড় সব বয়সী ক্রেতার ভিড় দেখা গেল মার্কেটজুড়ে। কেমন হলো এবার পূজার পোশাক? জানতে চাইলে ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, এবার পূজায় আমরা তিনটা থিমে কাজ করেছি। একটা প্রোডাক্ট লাইন করেছি দেবী ও শরৎ নিয়ে। শারদীয় দুর্গোৎসব তো হয়ই শরৎকালে। শরৎ থেকেই তো এসেছে শারদীয়। তাই পোশাকের মোটিফে দেবীর মুখ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি কাশফুল, লতাপাতাও আছে। আসলে পূজা ও প্রকৃতির সম্মিলিন ঘটেছে। আর একটা প্রোডাক্ট লাইন করেছি পেইন্টিং দিয়ে। বিভিন্ন শিল্পী দেবীদুর্গার মুখ এঁকেছেন। ওটাই আমরা অবিকৃতভাবে আমাদের ডিজাইনে তুলে এনেছি। আরেকটা প্রোডাক্ট লাইনের নাম মধুবন। এটার বিষয় মূলত ফোক। লোকায়িতভাবে দেব-দেবী ও অন্যান্য অনুষঙ্গ মোটিফ হিসেবে উঠে এসেছে পোশাকে। এ ছাড়া লাল- সাদা, জিওমেট্রোকিক, ফ্লোরাল, ডট, বল এসব তো আছেই। আর সব প্রোডাক্টই করা হয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে। আসলে ক্রেতারা মূলত দুই-তিন রকম মানসিকতার হয়। কেউ উজ্জ্বল রঙ পছন্দ করলে কেউ আবার হালকা রঙ চায়। তার ওপর আছে বয়সের বিষয়টি। বয়সভেদেও তো রুচি-পছন্দ বদলে যায়। তাই সবার কথা বিবেচনা করেই বিশ্বরঙের কো-ব্র্যান্ড ফেসরঙ ও শ্রদ্ধা করা হয়েছে। ফেসরঙে তরুণদের পোশাক যেমন আছে, তেমনি শ্রদ্ধায়

advertisement 4

আছে বয়স্কদের জন্য আয়োজন। মোটকথা একটা পরিবারের সবার কথা মাথায় রেখে পোশাক ডিজাইন করা হয়। দেশীয় পোশাকের দশটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ দেশিদশের উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন হাউস

‘সাদাকালোর’ উদ্যোক্তা আজহারুল হক আজাদ বলেন, এবার করোনা প্রকোপটা সেভাবে নেই। তাই পূজা উৎসবটা জমে উঠবে আশা করছি। করোনার দুই বছর ফ্যাশন খাত বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গত বছর করোনা কমে আমায় পরিস্থিতি খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল। এবার করোনার প্রকোপ সেভাবে নেই। আশা করছি এবার পূজার বাজার জমে উঠবে। এখন পর্যন্ত যা খবর পাচ্ছি তাতে দেশিদশ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে বেশ ভালো ক্রেতা সমাগম হচ্ছে। এখনো সময় আছে। আর শেষের দিকেই কেনাকাটা বেশি জমে ওঠে। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন ‘ ফ্যাশন উদ্যোগ’ (ফেব)-এর সহসভাপতি ও ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সৌমিক দাস বলেন, এবার ক্রেতাদের আনাগোনা বেশ ভালো। আসলে এখন তো কেবল শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে কেমন বেচাকেনা হলো। রঙ বাংলাদশের কথা যদি বলি তো, এ পর্যন্ত যেমন বেচাকেনা হচ্ছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমাদের আয়োজনও বেশ ভালো। আমরা তো পূজা উপলক্ষে আলাদা করে আয়োজন করে থাকি। এটা আমাদের পরিকল্পনাতেই থাকে। এটা দেখে ভালো লাগে যে, এখন আমাদের দেখাদেখি অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং আগে যারা বিদেশি পোশাক বিক্রি করত, তারাও দেশি পোশাক এবং পূজার জন্য আলাদা করে পোশাকের আয়োজন করে থাকে। এবার আমাদের মোটিফ পূজার ফুল। পূজার অঞ্জলিতে যেসব ফুল ব্যবহার করা হয়, সেসব ফুলের নকশা উঠে এসেছে আমাদের পোশাকে। রঙ লাল সাদার পাশাপাশি হলুদ, মেজেন্ডা, সবুজ ইত্যাদির প্রাধান্য আছে।

অফলাইনে মার্কেটের মতোই অনলাইনেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন উদ্যোক্তারা। যদ্রি করোনার সময় অনলাইনে মানুষ কেনাকাটা বেশি করেছে। এ ছাড়া উপায়ও ছিল না। এখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তার পরও ব্যস্ত নাগরিক জীবনে সময় বের করে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। কেউ আবার অনরাইনেই কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। পূজার আগে অনলাইনেও বেড়েছে কেনাকাটা। কথা হয় দিনাজপুরের উদ্যোক্তা শম্পা দাস মৌয়ের সঙ্গে। শম্পার উদ্যোগের নাম অঞ্জলি অনলাইন। অঞ্জলি বলেন, আসলে করোনার সময় থেকে আমার অনেক রেগুলার কাস্টমার হয়ে গেছে। তারা তো কেনেই। নতুন ক্রেতাও প্রচুর পাচ্ছি। পূজা সামনে রেখে আমরা নতুন কালেকশন এনেছি। কালেকশনে রয়েছে শাড়ি, কুর্তি, লংগাউন, আনারকলি। আমাদের পোশাকের এবার ডিজাইনের মূল মোটিফ দুর্গা, স্বস্তিকা ও ত্রিশূল। কাজের মাধ্যম ব্লক, হ্যান্ড পেইন্ট, অ্যামব্রয়ডারি, কাটওয়ার্ক ইত্যাদি। পূজা তাই রাল, সাদা ও উজ্জ্বল সব রঙ ব্যবহার করেছি। তবে আমরা সবচেয়ে বেশি পাই কাস্টমাইজ পোশাকের ওয়ার্ডার। যেমন- কোনো অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে অনেকজন এক রকম পোশাক পরবে অথবা কোনো পরিবারের সবার এক রকম পোশাক চায়। এমন অর্ডার এবার প্রচার পাচ্ছি। বলা যায় পোশাক রেডি করে, অর্ডার নিয়ে আবার সেগুলো রেডি করে কুরিয়ার করা, ভীষণই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

advertisement