advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উনি প্রতারণার চেয়ারম্যান

ফাঁদ পেতে লুটে নেন হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৩৭ এএম
জাকির হোসেন। পুরোনো ছবি
advertisement

 

বছর দশেক আগেও ঢাকায় ভাড়া গাড়ি চালাতেন জাকির হোসেন। এখন তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। ১০০টি গাড়ি নিয়ে শুরু করেছেন রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মাইনকারচর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী এক ব্যক্তিকে প্রাডো গাড়ি উপহার দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়েছেন। নির্বাচিত হয়ে রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ও সুলভমূল্যে গাড়ি কেনাবেচার নামে ভয়ঙ্কর প্রতারণার চক্র গড়ে তোলেন জাকির। বুধবার তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।

advertisement 3

ডিবি পুলিশ বলছে, রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ও স্বল্পমূল্যে গাড়ি কিনে বেশি মুনাফা লাভের ফাঁদে ফেলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জাকির। তার এমন প্রতারণার ফাঁদে সাধারণ মানুষ ছাড়াও সংসদ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তবে প্রভাবশালীদের টাকা ফেরত দিলেও শত শত সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেন জাকির।

advertisement 4

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, জাকিরের প্রতারণার মধ্যে অন্যতম হলো স্বল্পমূল্যে গাড়ির ব্যবসার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। রেন্ট-এ-কারে মাসিক ৬০-৭০ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা বলে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কারও টাকা কারও গাড়ি হাতিয়ে নেন তিনি। গত কয়েকদিনে ডিবি কার্যালয়ে দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ভিড় করেন। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারলাম, শুধু মুন্সীগঞ্জের

একটি গ্রাম থেকেই প্রায় দেড়শ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জাকির।

ডিবি প্রধান আরও বলেন, তার গাড়ি ২০-২৫টি। সেসব গাড়িই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকে দেখাতেন। জাকির কয়েকজন এমপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন। তবে তাদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে মাসিক কিস্তির টাকা ঠিকই পরিশোধ করেছেন। প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে ও রাজধানীর মুগদা থানায় এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জাকির চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকিরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, প্রতারণার টাকায় জাকির তার গ্রামে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। ঢাকাতে তিনি ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি কিনেছেন। ছেলেকে আমেরিকায় পাঠিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে তারও আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার প্রতারণা সম্পর্কে ডিবি প্রধান বলেন, জাকির চেয়ারম্যান স্বল্প দামে গাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেন। একই গাড়ি দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে চুক্তি করতেন। একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংবলিত গাড়ি একাধিক জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করতেন জাকির। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে শুধু ইঞ্জিন নম্বর দিয়েই মাসিক কিস্তি পরিশোধের ভিত্তিতে চুক্তি করতেন। কিছুদিন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করার পর বন্ধ করে দিতেন।

advertisement