advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জীবিত উদ্ধার রহিমা, তাহলে ফুলপুরের লাশটা কার?

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৬ পিএম | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৮ পিএম
মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্না। বস্তাবন্দী লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
advertisement

ময়মনসিংহের ফুলপুরে গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার বওলা গ্রামের অজ্ঞাত (২৮) এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি উদ্ধারের পর প্রথমে এক নারী এসে এটা তার মেয়ে তুলির বলে দাবি করে। পরে তুলিকেও জীবিত পাওয়া যায়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে খুলনার মরিয়ম মান্নান এসে এটা তার মা রহিমা বেগমের লাশ বলে শনাক্ত করেন। কিন্তু পরদিন তার মাকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। তাহলে ফুলপুরে উদ্ধার হওয়া লাশটি কার?

জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার বওলা পূর্বপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের বাড়ির দক্ষিণ পাশে একটি পারিবারিক কবরস্থান থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকালে বস্তার ভিতর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত হিসেবে ওই নারীর লাশ আঞ্জুমানের কবরস্থানে দাফন করা হয়। গলে যাওয়ায় ফিঙ্গার প্রিন্ট নিতে না পারায় লাশটি শনাক্ত করা যায়নি। ফুলপুর থানার পুলিশ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানোর ব্যবস্থা করে। এর মধ্যে একদিন নাটোরের এক নারী এসে লাশটি তার মেয়ে তুলির বলে দাবি করেন। তুলির মা ফুলপুর থানায় থাকতেই তুলি ঢাকা থেকে ফোন করে জানালো সে বেঁচে আছে।

advertisement

গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে মায়ের খুঁজে সাংবাদিক সম্মেলন করে আলোচিত মরিয়ম মান্নান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুলপুর থানায় এসে হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে বলেন- ফুলপুরে উদ্ধার হওযা লাশের ছবি ও কাপড় দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছে এটি তার মা রহিমা বেগম।

advertisement 4

মরিয়ম মান্নান তখন বলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের মাকে খুঁজছি। গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় একটি অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে এখানে ছুটে আসি। লাশের ছবি দেখে আমার মায়ের কপাল, হাত স্পষ্ট বোঝা গেছে। আমি মনে করি- মায়ের শরীর চিনতে কোনো প্রমাণ লাগে না। তারপরও আমরা অফিসিয়াল সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবো।’

এর মাঝে হঠাৎ করে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে ‘নিখোঁজ’ বহুল আলোচিত সেই রহিমা বেগমকে শনিবার রাতে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা বেগম জীবিত উদ্ধারের পর থেকে ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে। শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। সবার মনে একটা প্রশ্ন যে, তাহলে ফুলপুরে উদ্ধার লাশটি কার? 

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রহিমা বেগম জীবিত উদ্ধার হওয়ায় মরিয়ম মান্নানের ডিএনএ আবেদন আদালতে করা হবে না। তবে এ লাশের পরিচয় উদঘাটন করতে ফুলপুর থানা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

advertisement