advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

৩ বছর পর কবর থেকে তোলা হলো গৃহকর্মীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৯:১৯ পিএম | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৯:৪৭ পিএম
গৃহকর্মী রিয়া। ছবি: সংগৃহীত
advertisement

‘অপমৃত্যু নয়, মেয়েকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে’- মায়ের এমন অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে দাফনের ৩ বছর পর রিয়া আক্তার (১৩) নামের এক গৃহকর্মীর লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস আরার উপস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদীর মণ্ডলতলী এলাকার একটি কবরস্থান থেকে লাশটি তোলা হয়।

রিয়া টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার রাজু আহম্মেদের মেয়ে। সে টঙ্গী আউচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার নানা বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

advertisement

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর একটি বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মারা যায় রিয়া। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ওই মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

advertisement 4

তবে ওই কিশোরীর মা কুলসুম বেগম ছাদ থেকে ফেলে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরে ঢাকার সিএমএম আদালত-৮ গত ১ মে ডিএনএ টেস্টের জন্য মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন। 

এর আগে ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট রিয়া ও শিমলা নামে দুই কিশোরীকে গৃহকর্মীর কাজের কথা বলে ধানমন্ডির একটি বাসায় নিয়ে যান জাকির হোসেন নামের তাদের পরিচিত এক ব্যক্তি। এর ৪-৫ দিন পর রিয়া ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘মা আমি এ বাসায় ভালো নেই, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।’

একই বছরের ১৬ আগস্ট ভোরে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন লোক গিয়ে রিয়া অসুস্থ বলে জানায়। পরে ধানমন্ডির ওই বাসায় গিয়ে রিয়াকে মৃত দেখেন তার মা। এ সময় ১০ তলা বিল্ডিংয়ের বেলকনি দিয়ে শাড়ি বেয়ে নামার সময় রিয়া পড়ে মারা গেছে বলে জানান বাসার মালিক মমিনুল। পরে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরের দিন লক্ষ্মীপুর সদরের হামছাদী এলাকায় রিয়ার নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

রিয়ার মা কুলসুম বেগম বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২১ সালের ৭ জুলাই তদন্ত গ্রহণ করে। মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন স্বাক্ষী, জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ করে আদালতে চলতি বছরের ৩ মার্চ পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করে।

তিনি বলেন, মামলার চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিবেদন উপযুক্ত মনে না করায় আদালত মামলাটি ডিএনএ টেস্ট করার জন্য ডিবিকে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেয়। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস আরা জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে।

advertisement