advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে

ডা. হারাধন দেবনাথ
১৫ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৩৪ পিএম | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৪৯ পিএম
advertisement

প্রায় প্রত্যেক মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় ঘাড়ব্যথায় ভুগে থাকেন। ঘাড়ে ব্যথা যেকোনো কারণে হতে পারে। কম বয়সীদের ব্যথা হওয়ার প্রধান কারণ হলো- muskuloskeletal pain. যদি কেউ দুর্ঘটনাজনিত কারণে ঘাড়ে আঘাত পান বা abnormal position-এ ঘুমান অথবা কোনো ভারী জিনিস উত্তোলন করে থাকেন, তখন ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।

ছোট্ট ছেলেমেয়েরাও এ ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা এ ব্যথায় আক্রান্ত হয় তাদের স্কুলব্যাগ বহন করার কারণে। সাধারণত শিশুরা স্কুলে যাওয়ার সময় অনেকগুলো বইয়ের ভার বহন করে থাকে। এ কারণে তাদের ঘাড়ে ব্যথা হয়। এমনকি মেরুদণ্ডের অনেক ক্ষতিও হয় এ কারণে।

advertisement

ঘাড়ে ব্যথা চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী মানুষের মধ্যে সাধারণত সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এই বয়স থেকে সাধারণত মেরুদণ্ডের হাড় প্রথমে ক্ষয় হতে শুরু করে। পরে ক্যালসিয়াম জমে কাঁটার মতো হাড় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সমস্যার নাম স্পন্ডাইলোসিস। এর ফলে নার্ভের চলার পথে চাপ পড়ে। নার্ভের রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। এতে নার্ভের মারাত্মক ক্ষতিও হয়। স্নায়ুরজ্জুতেও প্রচণ্ড চাপ পড়ে। ফলে স্নায়ুরজ্জুও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

advertisement 4

এ রোগের পরিণতিতে রোগী ঘাড়ব্যথায় ভুগে থাকেন। ব্যথা ক্রমে হাতে যায়। ফলে হাত ও পা ঝিনঝিন করে। অনেক সময় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। রোগ অনেক পুরনো হয়ে গেলে রোগীর হাত-পা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে। প্রস্রাব-পায়খানা আটকে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। রোগী অনেক সময় প্রস্রাব-পায়খানা ধরে রাখতেও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এ কারণে যৌনমিলনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রবাদে আছে, prevention is better than cure. রোগ হওয়ার আগেই তাই সাবধান হতে হবে। অনেকে গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন। এটি মোটেও ভালো কোনো অভ্যাস নয়। গাড়িতে ভ্রমণকালে ঘুম এলে অবশ্যই ঘাড়ে সার্ভাইক্যাল কলার পরে থাকতে হবে। নিচু বালিশ এবং শক্ত বিছানায় ঘুমাতে হবে। নিয়মিত ঘাড়ের ব্যয়াম করতে হবে। উপুড় হয়ে ঘুমানো মোটেও উচিত নয়। ঘাড়ে ভারী জিনিস নেওয়া যাবে না। ঘাড়ব্যথার আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো- cervical disc prolapse, spinal TB, Spinal Fracture.

সার্ভাইক্যাল ডিস্ক প্রোলাপস্ হলে MRI of cervical spine, x-ray of cervical spine করে রোগ নির্ণয় করতে হবে। ঘাড়ে ব্যথার প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা হলো- ঘাড়ে কলার পরা, ব্যথার ওষুধ ভরাপেটে খাওয়া। যেসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে পারেন তা হলো- Tab. Naprosyn 500 mg, (1+0+1) 15 days. এর সঙ্গে আরও খেতে হবে Cap. Seclo 20 mg (1+0+1) 30 days এবং Tab, Myonil (1+0+1) 30 days. একইসঙ্গে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে। তবেই এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ওষুধ সেবনের পরও কোনো কারণে রোগ তেকে মুক্তি না মিললে ACDF নামে ঘাড়ের অপারেশন করতে হতে পারে। এই অপারেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোয় অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা microscopic ACDF করে থাকেন। এ চিকিৎসায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

ডা. হারাধন দেবনাথ: অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
চেম্বার: ল্যাবএইড হসপিটাল লি. ধানমন্ডি, ঢাকা
০১৭১১৩৫৪১২০

advertisement