advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইলন মাস্কের বিরোধিতা করে চাকরি খোয়ালেন টুইটারের প্রযুক্তিবিদ

অনলাইন ডেস্ক
১৬ নভেম্বর ২০২২ ০১:২৪ পিএম | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২২ ০২:৫৪ পিএম
ইলন মাস্ক।
advertisement

কোনো কর্মচারী তাকে প্রশ্ন করুক তা একদম পছন্দ করেন না টুইটারের নতুন মালিক ইলন মাস্ক। তাও আবার সোশ্যাল মিডিয়ায়। টুইটার সংস্থার এক দক্ষ প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্ককে প্রশ্ন করেছিলেন, আর সেই কারণেই তাকে চাকরি হারাতে হলো। এই ঘটনা ইলন মাস্ক নিজে প্রকাশ্যে এনেছেন।

টুইটার সংস্থার একজন দক্ষ ডেভেলপার ছিলেন এরিক ফ্রনহফার। তিনি টুইটারের অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

advertisement

গত মাসে ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে টুইটার কিনে নেন ইলন মাস্ক। এরপর থেকে টুইটারে নিজের পদ হিসেবে তিনি ‘চিফ টুইট’ লিখে রেখেছেন। টুইটার কেনার পর থেকে কর্মী ছাঁটাইসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাস্ক, যা ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে ইলন মাস্ক এসব গায়ে মাখছেন না।

advertisement 4

টুইটারের গতি অত্যন্ত ধীর বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন ইলন মাস্ক। আর এই নিয়ে এরিক ফ্রনহোফার সঙ্গে বিবাদ শুরু হয়। টুইটারে প্রকাশ্যে তিনি ইলন মাস্কের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন।

গত রোববার ইলন মাস্ক টুইট করে বলেন, ‘টুইটারের গতি অত্যন্ত ধীর। তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ পাল্টা টুইটে এরিক ফ্রনহোফার উত্তর দেন, ‘আমি ছয় বছর অ্যানড্রয়েডের জন্য টুইটারে কাজ করছি। আমি বলতে পারি, আপনি যে মন্তব্য করেছেন, তা ভুল।’

নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীর এমন টুইট ঠিকভাবে নিতে পারেননি ইলন মাস্ক। পাল্টা টুইট করে তিনি ওই কর্মীর কাছে জানতে চান, তার মূল্যায়ন যদি ঠিক না হয়, তবে সঠিক মূল্যায়ন কী হবে? টুইটারের এ সমস্যাগুলো ঠিক করতে ডেভেলপাররা কী কী করেছেন?

টুইটারের কেউ কেউ নানা মিম প্রকাশ করতে শুরু করেন। অনেকেই ইলন মাস্কের পক্ষ নেন। ডেভেলপারদের কেউ কেউ ফ্রনহফারের পক্ষ নেন।

তবে ইলন মাস্কের পক্ষের ব্যবহারকারীদের একজন ফ্রনহফারকে উল্লেখ করে লেখেন, মাস্কের মূল্যায়ন যে সঠিক নয়, সে বিষয়টি তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো উচিত ছিল। তবে ফ্রনহফার দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনিও টুইটের জবাবে লেখেন, ইলন মাস্কের উচিত ছিল বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে জানতে চাওয়া। তিনি ই-মেইলের মাধ্যমেও বিষয়টি জানতে চাইতে পারতেন।

ফ্রনহফারের জবাবটি ইলন মাস্ককে ট্যাগ করে এক ব্যবহারকারী লেখেন, এ ধরনের আচরণের কোনো ব্যক্তিকে আপনি কর্মী তালিকায় রাখবেন কি না? এর জবাবে ইলন মাস্কে লেখেন, তার চাকরি আর নেই।

ইলন মাস্ক টুইটারে দারুণ সক্রিয়। তিনি টুইটারে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে সাড়া দেন। এমনকি টুইটারে তিনি নানা বিষয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেন বা জরিপ চালান। টুইটারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিতর্কিত বেশ কিছু ফিচার এনেছেন। এর মধ্যে আট মার্কিন ডলার খরচ করে ‘নীল টিক’ চালুর বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত।

প্রযুক্তিবিষয়ক ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তিনি টুইটার ব্যবহার করার জন্য অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ভাবছেন। তবে ইলন মাস্ক যেসব সেবা চালু করেছেন, সেগুলো ব্যবহারকারীরা ভালোভাবে নেননি। ফলে বেশ কিছু উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপনদাতারাও সরে গেছেন। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন মাস্ক।

তবে তিনি এগুলো গায়ে মাখছেন না। এক টুইট করে তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে টুইটার বেশ কিছু বোকার মতো ভুল করবে। এর মধ্য দিয়েই শেখা যাবে।

advertisement