advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে কোরআন পাঠ করা কে এই তরুণ

স্পোটর্স ডেস্ক
২১ নভেম্বর ২০২২ ০১:৩২ পিএম | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২২ ০৭:০৭ পিএম
গানিম সিডিএস নামের বিরল ব্যাধি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, যা তার দুই পা’সহ নিম্ন মেরুদণ্ডের বিকাশকে ব্যাহত করে
advertisement

কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্বে পবিত্র কোরআন পাঠ করে সাড়া ফেলেছেন ২০ বছর বয়সী গানিম আল-মিফতাহ। গতকাল রোববার আল-খোর শহরের আল-বাইত স্টেডিয়ামে তাকে পবিত্র কোরআন পাঠ করতে দেখা যায়, যা ফিফা বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম।

গত এপ্রিলে গানিমকে কাতারের পক্ষ থেকে ফিফা বিশ্বকাপের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এবার গানিম ও হলিউড অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যানের সংলাপে শুরু হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্ব। এ সময় পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে মর্গান ফ্রিম্যান জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমরা সবাই একটি তাঁবুর নিচে একত্রিত হয়েছি। কীভাবে অনেক দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতি একত্রিত হতে পারে যদি শুধুমাত্র একটি পথকে গ্রহণ করা হয়?’

advertisement

এ সময় গানিম পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১৩ নম্বর আয়াত পাঠ করে এর অনুবাদ করেন। আর তা হলো, ‘হে মানুষ, আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি নারী ও পুরুষ থেকে, আমি তোমাকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরষ্পরকে চিনতে পারো, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সম্মানিত যে বেশি আল্লাহভীরু, আল্লাহ সব কিছু জানেন ও সব বিষয়ে অবগত।’

গানিম ও মর্গান ফ্রিম্যানের সংলাপে শুরু হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্ব
advertisement 4

গানিম বলেন, ‘আমরা আপনাকে আমাদের বাড়িতে স্বাগত জানাচ্ছি। একসময় আরব উপদ্বীপের যাযাবর বেদুইনরা আশ্রয়ের জন্য তাঁবু ব্যবহার করেছিল। তাই স্টেডিয়ামের নকশাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা এখানে সম্মান ও সহনশীলতার মাধ্যমে একসঙ্গে থাকতে পারি।’

এরপর মর্গান ফ্রিম্যান সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ফুটবল সব জাতিকে একত্রিত করেছে এবং খেলার প্রতি তাদের ভালবাসাকেও। যা সব জাতিকে একত্রিত করে তা সব সম্প্রদায়কেও একত্রিত করে। ’ এর আগে কাতারের রাজ পরিবারের সদস্য মারয়াম আল-থানি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছিলেন, গানিম পবিত্র কোরআন পাঠের মাধ্যমে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্ব শুরু করবেন।

গানিম ২০০২ সালে কডাল রিগ্রেশন সিনড্রোম (সিডিএস) নামের বিরল ব্যাধি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, যা তার দুই পা’সহ নিম্ন মেরুদণ্ডের বিকাশকে ব্যাহত করে। তবে জীবনযুদ্ধে সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এ তরুণ এখন সবার আশা ও অনুপ্রেরণার পাত্র। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন কূটনীতিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। নানা ধরনের অক্ষমতা ও প্রতিবন্ধকতার পরও গানিম নিজেকে সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, স্কেটবোর্ডিং রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো বিভিন্ন কাজে যুক্ত রাখেন। তাকে কাতারের সবচেয়ে কম বয়সী উদ্যোক্তা হিসেবে ধরা হয়। ঘারিসা আইসক্রিম নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের সহযোগিতার জন্য আছে দাতব্য সংস্থা। ২০১৮ সালে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত টেডএক্সে বক্তব্য দিয়ে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেন গানিম।

advertisement