advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দ-প্রাপ্ত আসামির পলায়ন
সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে

২২ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২২ ১১:৫২ পিএম
advertisement

পুরান ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তাদের সহযোগীরা। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত চার আসামিকে অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিতে এনেছিল পুলিশ। আকস্মিক আক্রমণে হকচকিয়ে যাওয়া পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দুজনকে আটকে রাখতে পারলেও অপর দুজন ঠিকই সঙ্গীদের সঙ্গে পালিয়ে যায়। খবরে জানা যাচ্ছে, কারাবন্দি জঙ্গিরাই প্রথম পুলিশকে মারধর করতে শুরু করে। তাতে বোঝা যায় যে, আলোচ্য ব্যক্তিরা ভয়ঙ্কর বা দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে গণ্য হলেও তাদের হাতকড়া পরানো ছিল না। ডা-াবেড়ির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও হাতকড়া ব্যবহারে কোনো সমস্যা ছিল না। ফলে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশের গাফিলতি বুঝতে অসুবিধা হয় না। আশা করব ডিএমপির তদন্ত কমিটি অচিরেই দায়ীদের শনাক্ত করবে এবং ডিবি ও অন্যদের তৎপরতায় পলাতক আসামিরা ধরা পড়বে।

advertisement

২০১৪ সালে ময়মনসিংহ থেকে একই কায়দায় তিনজন জঙ্গি পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন দ্রুত সময়ের মধ্যে ধরা পড়ে এবং পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আর অপর দুজন আজ পর্যন্ত ধরা পড়েনি। জানা গেছে, তারা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এবার অবশ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা থেকে বেরোনোর সব পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছে এবং সব সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছে। তা ছাড়া সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করে পলাতক অপরাধীদের ধরার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। অতীতেও দেখা গেছে, পুলিশ তৎপর হলে যে কোনো অপরাধীকেই ধরা যায় এবং আইনি ব্যবস্থায় শাস্তিও দেওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ সব সময় যেন দায়িত্ব পালনে একইরকম সতর্ক ও তৎপর থাকছে না। আমরা জানি না সম্প্রতি এই বিভাগের বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার ক্ষেত্রে ওপর মহলে এ ধরনের চিন্তা কাজ করেছে কিনা। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের কোথাও যে সমস্যা রয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে।

advertisement 4

বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারাবাহিকতার মধ্যেই থাকতে চায়। আর তাই সব ধরনের চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের রয়েছে শূন্য সহনশীলতার নীতি। এ নীতির প্রতিফলন এ সরকারের আমলে বরাবর আমরা দেখেছি। ফলে এ ঘটনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতোই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে কারও আপত্তি হবে না। তবে পুলিশের মধ্যে জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বৈরী চেতনা এবং দায়িত্ব পালনে উদাসীন প্রজাতির মানুষ যে নেই তা নয়। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এ ধরনের মনোভাবের চর্চা থাকলে দেশের প্রকৃত অগ্রগতি ব্যাহত হবে। আমাদের মনে হয় সব দিক বিবেচনা করেই সরকারকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কাজে উন্নত সাজসরঞ্জামের সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব অর্জনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

advertisement