advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকা-ইইউ প্রথম রাজনৈতিক সংলাপ আজ
অগ্রাধিকার ইস্যু গণতন্ত্র মানবাধিকার ও নিরাপত্তা

আরিফুজ্জামান মামুন
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩৮ পিএম
advertisement

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক সংলাপে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে সচিব বা কর্মকর্তাপর্যায়ে সিরিজ বৈঠক হলেও এবারই প্রথম ঢাকায় রাজনৈতিক আলোচনা হবে দুপক্ষের মধ্যে। সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ইইউর পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সংস্থার বৈদেশিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাসচিব এনরিকে মোরা।

advertisement

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম রাজনৈতিক সংলাপে সঙ্গত কারণে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতে আলোচনা হবে। যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে রাজনীতি, মানবাধিকার,

advertisement 4

সুশাসন, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, রোহিঙ্গা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে হবে মুখ্য আলোচ্য। দুপক্ষের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করতে উভয়ের আগ্রহ রয়েছে। সেটি বিবেচনায় রেখে আলোচ্য সূচি নির্ধারণ করেছে উভয় পক্ষ। ইতোমধ্যে ভারত ও পাকিস্তান ইইউর সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এখন বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটতে চায়। রাজনৈতিক সংলাপ বিষয়ে ঢাকার ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রথম দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সংলাপে বাংলাদেশ ও ইউরোপের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।

জাতীয় নির্বাচনের এখনো বাকি এক বছরের বেশি। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে, সেই সময় প্রথমবারের মতো সংলাপে বসতে যাচ্ছে ঢাকা ও ব্রাসেলস। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সংলাপে ইউক্রেন ইস্যুতে বাংলাদেশের সমর্থন চাইবে ইইউ। হোয়াইটলি বলেন, অবশ্যই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিন্ন অনুষ্ঠানে আসছেন। বাংলাদেশ তার সম্পর্ক নিজের মতো করেই এগিয়ে নেবে। নিজের সিদ্ধান্ত নেবে নিজের মতো করে। তবে আমরা চাই ইউক্রেন ইস্যুতে পাশে থাকবে বাংলাদেশ। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, অন্য ভূখ- দখলকারীদের কেউ-ই পছন্দ করে না। সে বার্তাই দেওয়া হবে বাংলাদেশকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও ইউরোপের বাজারে এ দেশি পণ্যের ২০২৯ সাল পর্যন্ত অগ্রাধিকার সুবিধা বহাল থাকবে। স্বল্পোন্নত দেশের উন্নয়নে ইইউর উদার নীতির কারণে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পেরেছে। এ ছাড়া সামনে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার সময়ও অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও। আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যুক্ত হতে রূপকল্প প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ। এই রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং এই সময়ের চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইইউ বাংলাদেশের ইতিবাচক অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করতে পারে। প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু ক্ষতি, বৃহৎ শিল্প স্থাপন, ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য- এসব খাতে ইইউ থেকে বাংলাদেশের সুবিধা আদায় করতে হবে। এ জন্য এই সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, আজকের সংলাপে ইইউর পক্ষ থেকে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার ইস্যুটি উত্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুও আলোচনায় তুলবে তারা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে সংলাপে। বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরা হবে ইরান সংকট সমাধানে ইউরোপের অবস্থানও।

ইইউ গত বছরের সেপ্টেম্বরে পৃথকভাবে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের উন্নয়নে শীর্ষ বিনিয়োগকারী, উন্নয়নের ক্ষেত্রে শীর্ষ সহযোগী এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্যিক অংশীদার হতে চায়। ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, ইইউ সাতটি ভিত্তির ওপর নির্ভর করে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল প্রকাশ করেছে। ভিত্তিগুলো হলো- টেকসই ও অন্তর্মুখী উন্নয়ন, সবুজ রূপান্তর, সমুদ্রে সুশাসন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও অংশীদারত্ব, কানেকটিভিটি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা। ইইউর এই সাত ভিত্তির সঙ্গে বাংলাদেশের নীতির কোনো পার্থক্য নেই। ঢাকাও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এসব বিষয়ের উন্নয়ন চায়।

advertisement