advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঋণ আদায়ে হাইকোর্টের রায়
চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:৩৮ পিএম
advertisement

এখন থেকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিভিন্ন আদালতে চলমান ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা সব চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ঋণ আদায়ে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রায় দেন। ঋণ আদায়ের জন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্র্যাক ব্যাংকের করা চেক ডিজঅনার মামলা বাতিল করে এ রায় দেন আদালত।

advertisement

রায়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা জারি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের ঋণের বিপরীতে ইনস্যুরেন্স কাভারেজ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রায়ে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

advertisement 4

পরে ব্র্যাক ব্যাংকের আইনজীবী সাইফুজ্জামান তুহিন সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, ব্যাংকঋণের বিপরীতে যে চেক নিচ্ছে, সেটি জামানত। বিনিময়যোগ্য দলিল নয়। জামানত হিসেবে রাখা সেই চেক দিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা করা যাবে না। আদালত বলেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একটি চুক্তির মাধ্যমে ঋণ নেওয়া হয়ে থাকে। ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিবাজ, অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে, তাদের হিডেন এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেকের অপব্যবহার করে মামলা করে থাকেন। তাদের ব্যবহার দাদন ব্যবসায়ীদের মতো।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ব্যাংক হওয়ার কথা ছিল গরিবের বন্ধু, কিন্তু তা না হয়ে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গরিবের রক্ত চুষছে। এটি হতে পারে না। যারা হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হচ্ছে, তাদের ঋণ মওকুফ করার কথা শুনি। কিন্তু কোনো গরিবের ঋণ মওকুফ করার কথা কোনো দিন শুনিনি। নীলকর চাষিদের মতো, দাদন ব্যবসায়ীদের মতো যেনতেন ঋণ আদায় করাই তাদের লক্ষ্য। ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আইনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা না করে চেক ডিজঅনার মামলা করছে। এ কারণে আমাদের ক্রিমিনাল সিস্টেম প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে। তাই এখন থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান শুধু অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবে। অন্য কোনো আইনে নয়।

advertisement