advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দানের টাকায় বৃহত্তম বুদ্ধমূর্তি

জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি
২৫ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৫৪ পিএম
advertisement

সুবলং শাখা বনবিহার। জুরাছড়ি উপজেলা সদরের কাছে এক সময়ের অনালোচিত বৌদ্ধবিহার ছিল। বর্তমানে এটি দেশের বৃহত্তম ১২৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে গৌতম বুদ্ধের সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তি। খ্যাতিরও চূড়ায়। পাহাড় ছাপিয়ে দেশের গ-ি ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও পৌঁছে গেছে এর খ্যাতি। সরকারি অনুদান ছাড়াই সাধারণ মানুষের দানের প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এটি।

advertisement

‘ভক্তিই’ হচ্ছে এই বুদ্ধমূর্তি নির্মাণের পেছনের গল্প। রাঙামাটি রাজবন বিহারের প্রতিষ্ঠাতা মহাসাধক সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেছেন জুরাছড়ি উপজেলায়। তার স্মৃতি রক্ষায় ভক্তরা নির্মাণ করেছেন এই বুদ্ধমূর্তি।

advertisement 4

প্রায় আড়াইশ ফুট উঁচু পাহাড়ে নির্মিত এই বুদ্ধমূর্তির উচ্চতা ৬০ ফুট, আর প্রস্থে ৪০ ফুট। নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৬ বছর। বুদ্ধমূর্তির নিচে রাখা হয়েছে মেডিটেশন কক্ষ। সামনে ইটবাঁধাই প্রশস্ত মাঠ, ফুলগাছ। চারপাশে সবুজ বনবনানী। সবার জন্যই এটি উন্মুক্ত। নিরাপত্তায়ও বিশেষ নজর দিয়েছে বিহার কর্তৃপক্ষ। রয়েছে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক, বিহারের আশপাশে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

এর ফলে তীর্থস্থান ছাড়াও দর্শনীয় হিসেবে জুরাছড়ির নাম ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশে। দৃষ্টিনন্দন কারুকাজে সজ্জিত হওয়ায় গৌতম বুদ্ধের বিশালাকার এই মূর্তি এরই মধ্যে নজর কাড়ছে সবার। প্রতিদিন দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে। এতে পর্যটন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা সদর থেকে একমাত্র নৌপথেই যোগাযোগ জুরাছড়ির। দূরত্বও প্রায় ৬০ কিলোমিটার। উপজেলা সদরের অদূরে সুবলং শাখা বনবিহারটি প্রায় ১৫ একর পাহাড়ি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১২ সালে এই বিহারের পাশেই বুদ্ধমূর্তিটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় উপজেলার ভিক্ষু সংঘ। এ কাজে হাত বাড়ান জুরাছড়ি উপজেলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সব পরিকল্পনা শেষে নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কাজ সম্পন্ন হয় ২০২১ সালের শেষের দিকে।

বুদ্ধমূর্তি অঙ্কনের দায়িত্বে ছিলেন বিমলানন্দ স্থবির। বিশ্বজিৎ বড়ূয়া, প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান ও দয়াল চন্দ্র চাকমা এর স্থপতি। আর তৃপ্তি শংকর চাকমা ছিলেন এর প্রকৌশলী। আর তহবিল গঠন করা হয়েছে স্থানীয় দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা ও সাধারণ মানুষের দানের টাকায়।

স্থানীয় আলোমতি চাকমা বলেন, ‘আমরা অর্থ ও শ্রম দিয়েছি। এমনকি দূর পাহাড়ের ছড়া থেকে পাথর সংগ্রহ করে এনে দিয়েছি। যেগুলো নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের ভালোবাসা আর স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে বলে গর্বিত।’

দর্শনার্থী দেব প্রসাদ দেওয়ান বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি। দেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তি নির্মিত হয়েছে পাহাড়ে।’ রাঙামাটি সম্বোধি ওয়েলফেয়ারের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এখানে আসবে বুদ্ধমূর্তি দেখতে। এতে এ অঞ্চলে পর্যটনের প্রসার ঘটবে।’

সুবলং শাখা বনবিহারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রবর্তক চাকমা বলেন, মাত্র ত্রিশ হাজার মানুষের বাস জুরাছড়ি। এর নির্মাণে অর্থনৈতিক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু আমরা নিজেদের টাকায় পেরেছি। দেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূতি নির্মাণের মধ্য দিয়ে দর্শনীয় স্থান হিসেবে জুরাছড়ির নাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে, যা এখানকার পর্যটন শিল্পের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। বুদ্ধমূর্তিটি উদ্বোধন উপলক্ষে ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর তিন দিনব্যাপী উৎসব পালন করা হয়েছে। ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বুদ্ধমূর্তির উদ্বোধন করেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।

advertisement