advertisement
advertisement
advertisement

চোরাচালানে বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকার স্বর্ণ আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২২ ০৯:১৭ এএম
advertisement

প্রবাসী কর্মীদের শ্রমে-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে জল, স্থল ও আকাশপথে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণ প্রবেশ করছে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সাংবাদিকদের গতকাল এ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। তবে বিপুল অঙ্কের এ স্বর্ণ চোরাচালানে সমিতির কোনো ব্যবসায়ী জড়িত নয় বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

advertisement

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স (বিএফআইউ) ইউনিটের সঙ্গে গতকাল বাজুসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠক থেকে বেরিয়ে সংগঠনটির নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান। তারা বলেন, বৈঠককালে স্বর্ণ চোরাচালান রোধে বিএফআইইউর সহযোগিতা চেয়েছে বাজুস। বিএফআইইউ ও বাজুস স্বর্ণ চোরাচালান রোধে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজেমি সেন্টারে বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। এতে বাজুসের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ও পরিচালক মো. এনামুল হক খানসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা।

advertisement 4

বৈঠকে বাজুস জানায়, জুয়েলারি শিল্পে চোরাচালান বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করছে এবং এটি রোধ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরাচালান শুধু দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে না, এর ফলে অর্থনৈতিক সংকটও বাড়ছে। বাজুস নেতারা বলেন, এমতাবস্থায় স্বর্ণের চোরাচালান রোধে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ৭টি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-

সোনা চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাজুসের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং সেল গঠন করা, চোরাকারবারিরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করা, সোনা চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশের জোরালো অভিযান নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশ সংস্থার সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ব্যাগেজ রুলের আওতায় স্বর্ণের বার ও অলঙ্কার আনার সুবিধা অপব্যবহারের কারণে ডলার সংকট, চোরাচালান ও মানিলন্ডারিংয়ে কী প্রভাব পড়ছে, তা নিরূপণে বাজুসকে যুক্ত করে যৌথ সমীক্ষা

পরিচালনা করা, অবৈধ উপায়ে কোনো চোরাকারবারি যেন সোনার বার বা অলঙ্কার দেশে আনতে এবং বিদেশে পাচার করতে না পারে সে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং জল, স্থল ও আকাশপথ ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে কেউ যাতে স্বর্ণের বার বা অলঙ্কার আনতে না পারে সে জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সভায় বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস বলেন, সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের মতো আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে স্বর্ণ চোরাচালানকে সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বর্ণ চোরাচালানে ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি বিবেচনায় বাজুসকে বিএফআইইউ-এর রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে বাজুস সভাপতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, জুয়েলারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যেন অর্থপাচারে এবং সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে তারা সম্মিলিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

advertisement