advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরু সড়ক ও দুই বেইলি সেতুতে মহাদুর্ভোগ

গোবিন্দ দেব,জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
২৫ নভেম্বর ২০২২ ০১:১৮ পিএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২২ ০১:২০ পিএম
বেইলি সেতু। ছবি: আমাদের সময়
advertisement

আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজে আসছে না ৩০০ কোটি টাকা দিয়ে নির্মিত পাগলা-সৈয়দপুর সড়ক হবিগঞ্জের সাড়ে তিন কিলোমিটার সরু অংশটি। উদ্বোধনের প্রথম দুই দিন এই সড়কে বড় যানবাহন চললেও সাড়ে তিন কিলোমিটার সরু সড়ক ও দুটি বেইলি সেতুর কারণে এ পথ ব্যবহার করেন না বড় যানবাহনের চালকরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, ৪৬ কিলোমিটার পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুরের সড়কে বিভাগের দীর্ঘ রানীগঞ্জ সেতুসহ ৩৬ কিলোমিটার অংশ সুনামগঞ্জ জেলার সীমানায় এবং বাকি ১০ কিলোমিটার হবিগঞ্জ জেলার সীমানায় পড়েছে। গত সাত নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানীগঞ্জ সেতু ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। এরপর এই সেতু ও সড়ক দিয়ে আন্তজেলা বাসসহ মালবাহী ট্রাক, কার্গো চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রথম দুই দিন এই সড়কে বড় যানবাহন চললেও সাড়ে তিন কিলোমিটার সরু সড়ক ও দুটি বেইলি সেতুর কারণে এ পথ ব্যবহার করছেন না বড় যানবাহনের চালকরা।

advertisement

সুনামগঞ্জ-ঢাকা সড়কে চলাচলকারী শ্যমলী পরিবহনের চালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি এই সড়ক দিয়ে দুইদিন গিয়েছিলাম। সুনামগঞ্জের শেষ সীমানা এনায়েতগঞ্জ পর্যন্ত সড়কে কোনো সমস্যা নেই। এরপরের কিছু অংশে কাজ চলছে, কিছু অংশে এখনো কাজ হয়নি। যেখানে কাজ হচ্ছে, সেই অংশ দিয়ে দিনে গাড়ি চলাচল করা কঠিন। আর যে অংশে কাজ হয় নি, সেখানে সড়কের প্রশস্ততা কম। সরু সড়কে সিএনজি-অটোরিকশাসহ অসংখ্য ছোট গাড়ি দিনে চলাচল করায় ওই অংশ দিয়ে গাড়ি টানাই যায় না। সময় বেশি লাগে, এজন্য এই পথে আর যাইনি আমি।’

advertisement 4

বড় ট্রান্সপোর্টের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একদিন এই পথ দিয়ে ঢাকা থেকে এসেছিলাম। ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে কিছু পথ এসেই ২০ মিনিটের পথ এক ঘণ্টায় এসেছি। সৈয়দপুর থেকে এনায়েতগঞ্জ পর্যন্ত পথে বড় যানবাহন চলতে সমস্যা হয়, পথ সরু। ছোট ছোট যানবাহনও ওখানকার সড়কে বেশি থাকে। এনায়েতগঞ্জ থেকে পাগলা পর্যন্ত সড়ক ভালো, কিন্তু জগন্নাথপুরের নারিকেলতলার পাশের কাটাখাল বেইলি সেতু ও বমবমি বাজারের পাশের বমবমি বেইলি সেতুতে এসে দুর্ভোগে পড়তে হয়।’

সুনামগঞ্জের মাইক্রোবাস চালক আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘গত সোমবার এই সড়ক দিয়ে ঢাকায় গেছি আমি। কোথাও তেমন কোনো সমস্যা নেই। এনায়েতগঞ্জ-বান্দেরবাজার অংশে কাজ চলছে। সামান্য কিছু অংশ এখনো কাজের বাকি। রানীগঞ্জ সেতু খুলে দেওয়ার আগেই এনায়েতগঞ্জ-সৈয়দপুর পর্যন্ত সড়কের কাজ শেষ করলে ভালো হত।’

সুনামগঞ্জের মাইক্রো চালক রাজন পাল বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে গেলে মন ভালো হয়ে যায়। দেড়ঘণ্টা কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো যায়। কিন্তু দুটি বেইলি সেতু যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, ‘বমবমি বেইলি সেতু ভেঙে নতুন সেতু করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়, সিলেট থেকে দরপত্র হয়েছে। আশাকরছি আগামী জানুয়ারি মাসে এই সেতুর কাজ শুরু হবে। কাটাখাল সেতুটি একটি প্রকল্পে অন্তভুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। এখনো সেটি অনুমোদন হয় নি। এনায়েতগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর অংশ হবিগঞ্জ জেলার সীমানায়, ওখানেও কাজ চলছে।’

হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এনায়েতগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটারের প্রায় শেষ। ওই অংশে ১৮ ফুট প্রশস্ত করা হয়েছে। বাকি সাড়ে তিন কিলোমিটারেও কাজ শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে এই অংশেরও কাজ শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া সিলেট বিভাগের একটি বড় সড়ক প্রকল্পে পাগলা-সৈয়দপুর সড়ক অন্তর্ভুক্ত আছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে এই সড়ক হবে ৩৪ ফুট প্রশস্ত। এই সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে যাবে।’

 

advertisement