advertisement
advertisement
advertisement

ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়া নদী

দখল-দূষণ চলে সমানতালে

মো. আনিছুর রহমান সুজন,ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:২০ এএম
একসময়ের খরস্রোতা ডাকাতিয়া নদী এখন মৃতপ্রায়; ভরে গেছে কচুরিপানায়। গতকাল ফরিদগঞ্জ এলাকায় - আমাদের সময়
advertisement

যে নদীর নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে আঁতকে উঠত, খালি চোখে নদীর এ পাড় থেকে ওই পাড় দেখা যেত না। সেই নদী আজ শুধুই স্মৃতি দুই পাড়ের মানুষের। এর অন্যতম কারণ চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বাঁধ তৈরি, যথাযথ পরিচর্যা না থাকা ও দুই পাড় জুড়ে ভূমিখেকোদের বেপরোয়া দখলদারিত্ব। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রোতা এই নদীটি যৌবন হারিয়ে আজ মরা ডাকাতিয়ায় পরিণত হয়েছে। জোয়ার-ভাটা বন্ধ হয়ে গেছে, কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে নদীর ফরিদগঞ্জ এলাকা। নাব্যতা হারিয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পানি। চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ নৌপথে অতিমাত্রায় কচুরিপানার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল। উপজেলা সদর বাজারের বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে পুরো এলাকা দূষণ ও দুর্গন্ধে ভরে গেছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নদীটির এই অবস্থা। ডাকাতিয়া নদী বাঁচাতে শিগগির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন এলাকাবাসী।

ফরিদগঞ্জের ২৫ কিলোমিটার নৌপথটি ডাকাতিয়া নদী ও সিআইপি বেড়িবাঁধের ভেতরের অংশে পড়েছে। নদীতে এত পরিমাণ কচুরিপানা জমেছে যে, কোথাও কোথাও হেঁটে

advertisement

অনায়াসে নদী পার হওয়া সম্ভব। একসময় চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ নৌপথে চাঁদপুর থেকে পণ্য নিয়ে এক-একটি নৌকা চান্দ্রা, টুবগী, গাজীপুর হয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে যেত। বর্তমানে এই নৌপথ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। মো. জহির মাঝি, খালেক মাঝি, মালেক মাঝি, হারুন মাঝি ও শাহাজান মাঝি জানান, ৭০-৮০টি নৌকা এই পথে চলাচল করত; কিন্তু কচুরিপানার কারণে এখন আর নৌকা চালানো যায় না। মকয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, স্থলপথে পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। নৌপথে খরচ অনেক কম, ঝুঁকিমুক্তভাবে পণ্য পরিবহন করা যায়। তারা ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ ও নাব্যতা সংকট দূর করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।

advertisement 4

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীর ফরিদগঞ্জ অংশ দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। উপজেলা সদরের উত্তর অংশে কেরোয়া ব্রিজের দুই পাড়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলে বিশাল অংশ ভরাট করেছে দখলবাজরা। শেখদি এলাকায় একটি নিচু ব্রিজ ও চান্দ্রাবাজারে নদী ভরাট করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে এক নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। নদীটি সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে। আর শেখদি এলাকার নিচু ব্রিজটিও অপসারণ করতে হবে। টুবগী এলাকায় একটি ব্রিকফিল্ডের আবর্জনা ফেলে নদীদূষণ করা হচ্ছে। নদীর বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় স্থানীয়রা চান জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হোক। অন্যথায় এক পর্যায়ে নদীটিই খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই জনপদে অস্তিত্ব হারাবে ডাকাতিয়া নদী।

উপজেলা মৎস্যসম্পদ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা জানান, ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণের জন্য সরকারের বড় ধরনের প্রকল্প নেওয়া দরকার। এতে পানি দূষণমুক্ত থাকবে। মৎস্যজীবী পরিবারগুলো বেঁচে যাবে। বরাদ্দ সাপেক্ষে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। আর নাব্যতা সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তসলিমুন ন্নেছার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা নদীরক্ষা কমিটির সভাপতি মো. কামরুল হাসান জানান, ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণে উদ্যোগ নিতে জেলা মৎস্য অফিস ও নৌপুলিশকে গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদীটি এভাবে পড়ে থাকলে আট-দশ বছরের মধ্যেই অস্তিত্ব হারাবে। আমি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পত্র পাঠাব। বরাদ্দ পেলে নদীটি পুনর্খনন করে নৌ চলাচলের উপযোগী করা ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

advertisement