advertisement
advertisement
advertisement

জাল টাকার ‘জাল’ মামলা খালাস ২

আদালত প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০২ এএম
advertisement

জাল টাকার এক মামলায় অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক তেহসিন ইফতেখার এ রায় দেন।

খালাস পাওয়া দুই আসামি হলেনÑ পল্টনের ‘হোটেল বন্ধু’র ম্যানেজার হাসান মজুমদার ও বাবুর্চি সোহেল রানা। মামলায় বাদীসহ ১২ জন সাক্ষ্য দেন। এ মামলার বাদী গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের (পূর্ব) ওসি তপন কুমার ঢালী। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর ফকিরাপুলের পশ্চিম পাশের গলি থেকে হাসান মজুমদার ও সোহেল রানাকে আটক করা হয়। তাদের কাছে ২৫ লাখ টাকার জাল মুদ্রা পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এসআই দেওয়ান উজ্জ্ব¡ল হোসেন। আসামিরা পাঁচ মাস জেলহাজতে থাকার পর জামিন পান।

advertisement

খালাসের পর হাসান মজুমদার বলেন, ‘২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বেলা সোয়া ১১টায় হোটেলের তৃতীয় তলায় ওসি তপন কুমার ঢালী ও এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের কয়েক ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা কাউন্টারে বাবুর্চি সোহেল রানাকে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। আমি বিষয়টি জানতে চাইলে আমাকেও হাতকড়া পরিয়ে দেয়। এরপর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে সহকারী কমিশনার জুয়েল রানা ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেন তাদের আরেকটি কক্ষে ডেকে নিয়ে বলেন, ৩ লাখ টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে জাল টাকার মামলা দেওয়া হবে। ওই দিন রাতেই মতিঝিল থানায় তপন কুমার ঢালী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।’

advertisement 4

হাসান মজুমদার বলেন, ‘এ ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেলের এএসপি ওমর ফারুক ঘটনাটি তদন্ত করে মিথ্যা মামলা দায়েরের সত্যতা পান। তদন্ত রিপোর্টে মতিঝিল জোনাল টিমের পুলিশ সদস্যদের দায়ী করা হয়। ৫ মাস ২৭ দিন পর ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল আমরা জামিন পাই। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার ডিবি অফিসে ডেকে নিয়ে আইজিপির কাছে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমদের হোটেল থেকে তুলে আনে। আর মামলায় দেখানো হয়, আমাদের ফকিরাপুল থেকে ধরা হয়েছে। তাই আমরা আদালতে ভিডিও ফুটেজ দাখিল করেছি। মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আমাদের খালাস দিয়েছেন।’

advertisement