advertisement
advertisement
advertisement

টাকা লোপাট: বিএমডির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজশাহী ব্যুরো
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০৮:১৯ পিএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০৮:১৯ পিএম
দুর্নীতি দমন কমিশন। ছবি: সংগৃহীত
advertisement

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) ১৮০টি চেক টেম্পারিং করে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেন।

২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিএমডিএর রাজশাহীর গোদাগাড়ী জোন-২’র কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলেমিশে এই টাকা পকেটে তুলছেন।

advertisement

মামলার আসামিরা হলেন- গোদাগাড়ী জোন-২’র তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ খাবির উদ্দিন (৪৫) এবং একই কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলাম (৫৫)। হাসনুল বর্তমানে বিএমডিএর রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় কর্মরত আছেন। আর খাবির উদ্দিন গোদাগাড়ী থেকে নওগাঁর মান্দায় বদলি হয়েছিলেন। বর্তমানে তারা দুজনই সাময়িক বরখাস্ত আছেন। এ দুজনের বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

advertisement 4

খাবির ও হাসনুলের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাসনুল গোদাগাড়ীতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন আয়-ব্যয় কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি বিল ভাউচারা পাশ, চেক ইস্যু এবং কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ খাবির উদ্দিন। তিনি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ক্যাশ বই সংরক্ষণ, আয়-ব্যয়ের হিসাব লিপিবদ্ধ, চেক প্রস্তুত, চেক রেজিস্টারে চেকের তথ্য রেকর্ড ও সংরক্ষণ এবং ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

এই দুই কর্মকর্তা চেক টেম্পারিং করে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক গতবছর বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে। চেকের কপি ও মুড়ি বই পর্যালোচনায় দেখা যায়, খাবির উদ্দিন ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য চেকে এবং চেকের মুড়িতে সমপরিমাণ টাকার অংক লিপিবদ্ধ করে আয়-ব্যয় কর্মকর্তার স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। কিন্তু খাবির উদ্দিন ব্যাংকে চেকগুলো দেওয়ার আগে সুকৌশলে টাকার অংক পরিবর্তন করে নিতেন। এভাবে বেশি টাকা তুলতেন। চেক পর্যালোচনায় দেখা যায়, চেকের মুড়ি অনুযায়ী টাকার অংক লেখার সময় বাম পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে আয়-ব্যয় কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিতেন তিনি। পরবর্তীতে ইচ্ছামতো টাকার অংক পরিবর্তন করে নিতেন।

এ প্রক্রিয়ায় ১৮০টি চেকে টাকার অংক কাটাকাটি বা ওভার রাইটিংয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন করে টাকার অংক বৃদ্ধি করে তোলা হয়েছে। ওই ১৮০টি চেকে প্রকৃতপক্ষে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৪ টাকা তোলা যেত। কিন্তু টাকার অংক ও কথায় পরিবর্তন করে তোলা হয়েছে ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৫২ টাকা। খাবির উদ্দিন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম যোগসাজোশ করেই বিভিন্ন খাতের বিপরীতে অতিরিক্ত ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৮ টাকা তুলেছেন।

এ ছাড়া খাবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে ১১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরেক মামলায় বিএমডিএর সাময়িক বরখাস্ত থাকা সহকারী হিসাবরক্ষক মতিউর রহমানের (৫০) বিরুদ্ধে এক লাখ ২১ হাজার ৩২২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক মামলার এজাহারে বলেছে, এ দুই কর্মকর্তা পারস্পরিক যোগসাজোশে ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অপরাধ করেছেন। তারা চেক টেম্পারিং করে অনেক রেকর্ডপত্র গায়েবও করে দেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে নথি আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিষয়ে মোহনপুর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী জিএফএম হাসনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো যথাযথভাবে চেক সই করতাম। সেই চেক নিয়ে যদি কেউ টেম্পারিং করে, তাহলে এই দায় তার এবং ব্যাংকের। এ জন্য আমি কোনভাবেই দায়ী নই। মামলা হয়েছে কি না তাও আমি জানি না।’

সাময়িক বরখাস্ত থাকা সহকারী হিসাবরক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি চক্রান্তের শিকার।’

advertisement