advertisement
advertisement
advertisement

বহুজাতিক দেশে জাতিগত সৌহার্দ ফেরানো জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা বাড়ছে
২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:০৬ পিএম
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রে বারবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়া ও আইওয়াতে জনসমাবেশে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ক্যালিফোর্নিয়াতেই বন্দুক হামলা ঘটেছিল এবং তাতে প্রাণ হারান চীনা নববর্ষের উৎসবে অংশগ্রহণকারী ১১ জন নাগরিক। এবারের হামলাকারী চীনা নাগরিক হওয়ায় এটিকে আগেরটির বদলা হিসেবে দেখারও অবকাশ রয়েছে। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে ৩৮টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেখা যাচ্ছে এমন হামলার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে পৃথিবীর মহাশক্তিধর এই দেশটিতে। ২০২০ সালে ৬১০টি সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতার আইনে কোনো ঘটনায় তিনজন বা তার অধিক প্রাণহানি ঘটলে তাকে ‘নির্বিচার গুলির ঘটনা’ আখ্যায়িত করা হয়। সে হিসেবে উপরোক্ত ৬১০টিই ছিল নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনা। এ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আঁচ পাওয়া যায়।

এক পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ কোটি। বলা যায়, প্রতি একশ নাগরিকের বিপরীতে অস্ত্রের সংখ্যা হলো ১২০টি! যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র আইন তুলনামূলকভাবে নমনীয়, তদুপরি অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সেদেশের জনমত ও নীতি প্রণয়নে শক্তিশালী একটি পক্ষ। ফলে আইনের সুযোগ নিয়ে যে কেউই যে কোনো সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে সক্ষম, তাতে মারাত্মক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত। ঐতিহাসিকভাবে দেশটি এবং তার জাতি গঠনে যুদ্ধবিগ্রহ, সংঘাত ও বলপ্রয়োগের প্রক্রিয়া প্রাধান্য পেয়েছিল। সেই থেকে বিশাল দেশটিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র রাখার সংস্কৃতি বেশ পুরনো ও সর্বজনীন। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রেসিডেন্ট অস্ত্র আইনে সংশোধন আনার চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি।

advertisement

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই অভিবাসীদের দেশ। প্রথম পর্বে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে ভাগ্যান্বেষীরা এই দেশে বসতি গড়েছেন। আবার মহাযুদ্ধের প্রেক্ষাপটেও ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দার সময় মহাদেশটি থেকে ব্যাপক অভিবাসন হয়েছিল এই দেশে। তা ছাড়া কৃষিপ্রধান ও খনিসমৃদ্ধ দেশটিতে শ্রমিক হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে কালো মানুষদের। পাশাপাশি ক্রমে এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দলে দলে মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এসেছেন এই মহাদেশপ্রতিম দেশে। ফলে আজকের যুক্তরাষ্ট্র হয়ে উঠেছে এক জনবৈচিত্র্যের মোজাইক। কিন্তু সেই দেশে বর্তমানে নানামাত্রিক জাতিগত বিদ্বেষ ছড়াতে দেখা যাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠতার দাবিদার গোষ্ঠীগুলো এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময় থেকে মার্কিন সমাজে ঘৃণার সংস্কৃতি বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে মুসলিম ধর্মাবলম্বী এবং এশিয়ানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-সংঘাতের প্রকোপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করব পরিস্থিতির অবনতি রোধে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র আইন সংশোধন এবং সমাজে আন্তঃধর্ম ও আন্তঃজাতি সৌহার্দময় সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে। সমাজ থেকে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও সহিংসতা উচ্ছেদ জরুরি।

advertisement 4

advertisement