advertisement
advertisement
advertisement.

বাধা হামলা গ্রেপ্তারের অভিযোগ বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মে ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ মে ২০২৩ ১০:৩৭ এএম
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির পথসভায় হামলা। ছবি: আমাদের সময়
advertisement..

জনসমাবেশ করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাধা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটি বলছে, জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে তিন জেলায় সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দুই দলের অন্তত ৫০ জন। জনসমাবেশে যাওয়ার পথে খাগড়াছড়িতে হামলার শিকার হয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের গাড়িবহর। বরগুনায় সমাবেশে যেতে বাধার মুখে পড়েন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেখানে খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। মেহেরপুরে গ্রেপ্তার করা হয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে।

সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেশের ১৭ সাংগঠনিক জেলায় গতকাল শুক্রবার এ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

advertisement

ঢাকা : কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় ঢাকা জেলা বিএনপির জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে জিনজিরা বাস রোডে এ ঘটনা ঘটে। এতে নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দুপক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে নিপুণ রায়ের মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নিপুণ রায়সহ আমাদের ৩০ থেকে ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা হামলা-মামলা করে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে পারবে না।’

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম ই মামুন পাল্টা অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কার্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের ২০-২২ জন আহত হয়েছেন।’

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়, সংঘর্ষের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জিনজিরা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তাদের জনসমাবেশ শুরু হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজ কেরানীগঞ্জের শান্তি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী

দিয়ে আমাদের দলের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে জেলা সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মামলা-হামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

খাগড়াছড়ি : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফছার বলেন, জনসমাবেশে যোগ দিতে খাগড়াছড়ি আসছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তার গাড়িবহর নারকেলবাগান এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এলে হামলার মুখে পড়ে।

এম এন আফছার বলেন, হামলায় আবদুল্লাহ আল নোমান রক্ষা পেলেও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহন রোয়াজা, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল হাসান, মানিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রানা, পৌর ছাত্রদল নেতা ইফতি আহম্মেদ আহত হন।

গাড়িবহরে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহসভাপতি আবদুল গফুর বলেন, আওয়ামী লীগের অন্তত ২০০ নেতাকর্মী হামলা চালায়।

বরগুনা : জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লার অভিযোগ, শুক্রবার সকাল থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ। নৌপথে খেয়াপারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাথরঘাটা থেকে আসার সময় আটকে দেওয়া হয় একটি লঞ্চ। বামনায় নেতাকর্মীদের ট্রলার ছাড়তে দেওয়া হয়নি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের সভাপতিত্বে জনসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুল হক নান্নু, ফিরোজ উজ্জামান মোল্লা ও নুরুল ইসলাম মনিও বক্তব্য রাখেন।

এদিকে সমাবেশের আগের রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাথরঘাটা থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এম কামরুল ইসলাম বলেন, সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক ও পাথরঘাটা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হারুন আর রশিদ হাওলাদার বলেন, জনসমাবেশে যেতে তারা একটি লঞ্চ ভাড়া করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপে লঞ্চটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই সকাল থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল ও মাছ ধরার ট্রলারে বরগুনায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পথে পথে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাধা দেয়।

বগুড়া : বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, বগুড়ার সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠের জনসমাবেশে যোগ দিতে সোনাতলা উপজেলার নেতাকর্মীরা বাস-ট্রাক ও অটোরিকশায় রওনা দেন। গাবতলী মডেল থানার পুলিশ তল্লাশির নামে নেতাকর্মীদের সেই গাড়ি আটকে দেয়। বিকাল ৩টার দিকে সোনাতলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তিনটি বাসে বগুড়ায় যাচ্ছিলেন। গাবতলী-সুখানপুকুর সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশের তল্লাশিচৌকির সামনে পড়ে বাস তিনটি। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর একপর্যায়ে বাস তিনটি ফিরিয়ে দেয়। পরে বিকল্প সড়কে বাস তিনটি বগুড়ায় পৌঁছায়।

গাবতলী মডেল থানার ওসি সনাতন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, রেলক্রসিং এলাকায় পুলিশের একটি টহল দল আছে। কিন্তু বিএনপির সমাবেশে যোগদান করতে যাওয়া বাস আটকানোর কথা তার জানা নেই।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার বলেন, সমাবেশ ভ-ুল করতে বুধবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অর্ধশত নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, চিহ্নিত অপরাধী, অস্ত্রবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অনেক আগে থেকেই চলমান। কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারেন, সে জন্য থানায় থানায় বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা বিএনপির সমাবেশকে ভ-ুল করতে কোনো ধরনের অভিযান চালানোর অভিযোগ সত্য নয়।

মেহেরপুর : মেহেরপুরে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাহিদ মাহবুব সানি ও মেহেরপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক হোসেন কালুকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করে। জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন-সমাবেশে ভীত হয়ে নেতাকর্মীদের গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।