সোয়া ৪ কোটি মানুষের মৃত্যু হয় অসংক্রামক ব্যাধিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ০০:২৫

অসংক্রামক রোগে প্রতি বছর সারাবিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা মোট মৃত্যুর শতকরা ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে দেড় কোটি মানুষের মৃত্যু হয় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয়। মৃত্যুবরণকারীদের বয়স ৩০ থেকে ৬৯ বছর। এসব মৃত্যুর ৮৫ শতাংশের বেশি হচ্ছে অকালমৃত্যু, যা এড়ানো সম্ভব। অসংক্রামক ব্যাধির কারণে বিভিন্ন দেশের আর্থিক উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। গতকাল রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইসিডিডিআরবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ব্র্যাক জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলনে ৩৫টি দেশ থেকে ৫শ নীতি-নির্ধারক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গবেষক অংশ নিচ্ছেন।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্যÑ ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে অসংক্রামক ব্যাধির নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্ভাবনা’। অন্যান্য প্রতিপাদ্য হলোÑ (১) স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচি (২) কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (৩) শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবিক পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা (৪) কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচি এবং অসংক্রামক ব্যাধির প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোদাসসের আলী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে টিকাদান, অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং পরিবার পরিকল্পনা প্রসারে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে; যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ।

আইসিডিডিআরবি’র হেলথ সিস্টেমস অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিজ ডিভিশনের সায়েন্টিস্ট ও শেয়ার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. ইকবাল আনোয়ার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন ইউনিসেফের যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ড. রোরি নেফত।

সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত ১শ বছরে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা সফলভাবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, টিকাদান, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শিক্ষাদান এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পরামর্শ সেবা দান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাদের কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ সংক্রামক ব্যাধিজনিত মৃত্যুহার বিস্ময়কর হারে কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে সম্প্রতি রোগের ব্যাপকতা দ্রুত সংক্রামক থেকে অসংক্রামকের দিকে ধাবমান হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ চিন্তিত। তারা ভাবছেনÑ কিভাবে অসংক্রামক ব্যাধি শনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসা দেওয়া যায়।

এবারের সম্মেলনে ২৩২টি গবেষণা সারসংক্ষেপ (অ্যাবস্ট্র্যাক্ট) জমা পড়েছে। যার মধ্যে ১৪১টি মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০ জন নবীন অংশগ্রহণকারী তাদের অ্যাবস্ট্র্যাক্টের গুণগত মানের ভিত্তিতে বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে উগান্ডার কাম্পালায় ‘১ম আন্তর্জাতিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচির অবদান তুলে ধরা হয়। সম্মেলনের অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসাবে রয়েছেÑ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএসএআইডি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউকেএআইডি, এমএসএইচ, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস, ব্র্যাক, ইউনিসেফ ও ইউএনএফপিএ।