সাবেক এসপি বাবুলকে গ্রেপ্তার নিয়ে যা বললেন তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে ২০২১ ২৩:৪৮ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২৩:৪৮

চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে চট্টগ্রামে ডেকে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা আজ মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে যা বলার বুধবার বলব।’

মাহমুদা হত্যা মামলার বাদী বাবুল আক্তার। একাধিক সূত্র জানায়, মামলার বাদী নিজেই যদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নতুন মামলা করা হয়ে থাকে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীীকাল বুধবার আগের মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মাহমুদার পরিবার বাবুল আক্তারকে আসামি করে হত্যা মামলা করতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

এর আগে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুলকে গতকাল সোমবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। পিবিআইয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘বাবুল আক্তার তো মামলার বাদী। তিনি নিজে নিজেই চট্টগ্রামে গিয়েছেন। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘটনায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে কয়েক দিনের মাথায় মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়। এক পর্যায়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার শ্বশুর মোশারফ হোসেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, আলোচিত এই মামলাটি প্রথমে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ও চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্তে নেমে প্রথমবারের মতো মামলার বাদী ও সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলছে। কয়েকদিন আগে নিহত মিতুর বাবার সঙ্গেও পিবিআইয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কথা বলেন বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে বাবুল আক্তারকে পুলিশ সুপারের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন বলা হলেও তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছিলেন। পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তিনি প্রথমে কিছুদিন রাজধানীর আদ্বদীন হাসপাতালে চাকরি করলেও বর্তমানে ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে।