ইউপি সদস্যকে হত্যার পর হাত কেটে নিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও নোয়াখালী প্রতিনিধি
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০০

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে রবীন্দ্র চন্দ্র দাস (৪৮) নামে এক ইউপি সদস্যকে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতকরা নিহতের ডান হাতের একাংশ কেটে নিয়ে গেছে। এ হত্যাকা-ের পেছনে ইউপি চেযারম্যান আবদুল হালিম আজাদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবীন্দ্র চন্দ্র দাস চরঈশ্বর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতিষ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও স্বেছাসেবক লীগের সহসভাপতি।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আল আমিনসহ মোটরসাইকেলে চরঈশ্বর থেকে ওছখালীতে নিজের বাসায় ফিরছিলেন রবীন্দ্র চন্দ্র দাস। তাদের মোটরসাইকেল চরঈশ্বর প্রধান সড়কের খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের বাড়ির সামনে এলে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা আল আমিন পেছন দিকে দৌড়ে পালিয়ে

গেলেও হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়েন রবীন্দ্র। পেছনে দুটি মোটরসাইকেলে আরও চারজন থাকলেও তারাও গুলির শব্দে বাইক ফেলে পালিয়ে যান। পরে হামলাকারীরা প্রথমে রবীন্দ্রের মাথায় গুলি করে আহত করে। এক পর্যায়ে তারা রবীন্দ্রকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এবং ডান হাতের কব্জি ও রগ কেটে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। ঘটনার পর টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবীন্দ্রের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ হত্যাকারীরা নিয়ে গেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আল আমিন বলেন, আমরা মোটরসাইকেল নিয়ে আসার পথে আজাদ চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যানের ছেলে অমি, ভাতিজা সোহেল, রহিম ডাকাত, নাজিমসহ কয়েকজন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা রবীন্দ্রকে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহতের বাবা স্বতিষ চন্দ্র দাস আমাদের সময়কে বলেন, রাতে বাংলাবাজার থেকে ওছখালী যাচ্ছিল রবীন্দ্র। রাতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে ওছখালী বাসায় কল দিয়ে জানতে পারি সে বাসায় যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর একজন মোবাইল ফোনে জানায় রবীন্দ্রকে কারা যেন কুপিয়েছে।

২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আজাদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমরা ১১ জন মেম্বার একযোগে অনাস্থা দিয়েছিলাম। তিনি দুর্নীতিবাজ। পরিষদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। আমরা তার অনিয়মের প্রতিবাদ করায় রবীন্দ্রকে হত্যা করা হয়েছে।

চরঈশ্বর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন জানান, আবদুল হালিম আজাদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার একক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে রবীন্দ্র মেম্বারসহ আমাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এর পর ১১ জন মেম্বার একসঙ্গে লিখিতভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেন। এ নিয়ে আজাদ চেয়ারম্যান আমাদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদ বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকা রয়েছি। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে আমি, আমার পরিবার ও দলের কোনো লোকজন জড়িত নেই। একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে আজাদ চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও একজনকে আটকের কথা শোনা গেলেও পুলিশ কিছু জানায়নি। রবীন্দ্র দাসের মরদেহ গতকাল সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল। হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, হত্যাকা-ের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।