হাঁটুতে প্ররোচনাকারীদের নাম লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

বরিশাল ব্যুরো
১১ জুন ২০২১ ২১:০৩ | আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ২১:০৩
নিহতের পায়ে লেখা আত্মহত্যার কারণ। সঙ্গত কারণে ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে। ছবি : আমাদের সময়

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনাকারীদের নাম নিজের শরীরে কলম দিয়ে লিখে গেছেন এক সন্তানের জননী টুম্পা। তিনি যাদের অভিযুক্ত করে গেছেন তারা হলেন- তার স্বামী, ভাসুর ও জা। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ টুম্পার স্বামী স্বপন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর স্বপনকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা আত্মগোপন করেছেন। অগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার এসব তথ্য জানান।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মৃত বঙ্কিম মন্ডলের ছেলে স্বপন মন্ডলের (৪২) সঙ্গে ১১ বছর আগে টুম্পার (৪০) বিয়ে হয়। বিয়ের পরে স্বামী, ভাসুর ও জা’র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ৭/৮বছর আগে স্বপন তার বাবার বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী টুম্পাকে নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামান্দেরআঁক গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। টুম্পা ও তার স্বামী সরকারি রাস্তায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

টুম্পার বড় বোন কল্পনা অধিকারী জানান, জমি-জমা ও পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য গত মঙ্গলবার সকালে টুম্পা তার স্বশুরবাড়ি গেলে সেখানে তার ভাসুর বিবেক মন্ডল ও জা রীতা রানী মন্ডল তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মানষিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে টুম্পাকে বের করে দেয়। স্বামী, ভাসুর ও জা’র নির্যাতন সইতে না পেরে মঙ্গলবার রাতে টুম্পা নিজের ঘরে বিষপান করে আত্মহত্যা করে। গত বুধবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ টুম্পার লাশ খাটের উপর থেকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মিশু জানান, টুম্পার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় তিনি মরদেহের হাঁটুর উপরের অংশে কিছু লেখা দেখতে পান। সেখানে টুম্পা তার আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের নাম লিখেছেন। মৃত্যুর কারণও লেখা আছে। সেখানে টুম্পার স্বামী স্বপন মন্ডল, ভাসুর বিবেক মন্ডল ও বিবেকের স্ত্রী রীতা মন্ডলের নাম লিখেছেন।

এ ছাড়া, টুম্পাকে তার মায়ের শশ্মনের কাছে সৎকার করার আকুতি রেখে যায়। নিজের শরীরে মৃত্যুর কারণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের নাম দেখে টুম্পার বড় বোন কল্পনা অধিকারী বাদী হয়ে টুম্পার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে উল্লেখিত তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত টুম্পার স্বামী স্বপন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।