advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

অভিযোগের প্রমাণ পেলে বিতর্কিতরা বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মে ২০১৯ ২০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৯:০৫
পুরোনো ছবি

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অনেকের নামেই নানা অভিযোগ উঠেছে। কমিটিতে পদ পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যকার অর্ন্তকোলহ, সংঘর্ষের খবর গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানেও। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে, অন্যদেরকে ওইসব পদে পদায়ন করতে। গণভবন সূত্রে খবরটি জানা গেছে।

গণভবনে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যান ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ও ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ চার নেতার সঙ্গে ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে খোঁজ নেন সংগঠনটির আদর্শিক নেত্রী শেখ হাসিনা। সোহাগ ও জাকির অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপা কমিটিতে আমাদের অনেককেই রাখা হয় নি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের লিস্টের অনেকেই তো আছে এখানে। তোমরা কি আরও চাও। তাহলে এক কাজ করি তোমাদের আগের ৩০১ সদস্যের কমিটিটাই পুর্নবহাল করে দিই।

প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে চুপ করে থাকেন সোহাগ ও জাকির। এসময় অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে শোভন ও রব্বানীকে নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে ওই পদে অন্যদেরকে পদায়ন করতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সন্ধ্যায় শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আপা আমাদেরকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। কয়েকটি পদে যাদের নামে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিষয়ে খোজ খবর নিতে বলেছেন। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদেরকে বাদ দিয়ে সেখানে অন্য কয়েকজনকে পদ দিতে বলেছেন।’

জানা গেছে, ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যর কমিটিতে কমপক্ষে ৪০ জনের নামে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিবাহিত, ছাত্রদল-শিবিরের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, টেন্ডারবাজি, বয়স্ক, রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, চাঁদাবাজি-ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ উঠেছে সদ্য পদ পাওয়া ছাত্রলীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে। তবে কমিটিতে পদ পাওয়া এসব বিতর্কিত নেতাদের দায় নিচ্ছেন না ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউই।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায় চাপাচ্ছেন ছাত্রলীগের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের চার কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দীন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল এবং সদ্য সাবেক দুই শীর্ষ নেতা সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইনের ওপর।

আবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা দায় চাপাচ্ছেন শোভন ও রাব্বানির ওপর। বিতর্কিতদের নিয়ে এভাবে ব্লেম-গেম চলছে ছাত্রলীগে। যেমন কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপ গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন একজন বিবাহিত সাংবাদিক। তিনি একাধারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক।

তাকে পদ দিতে কে সুপারিশ করেছে জানতে চাইলে ছাত্রলীদের শীর্ষ দুই নেতা আওয়ামী লীগের দুই নেতার নাম বলেন। আবার আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা বলেন, তারা এগুলো জানেন না। জানে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক চার শীর্ষ নেতা। ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদ পেয়েছেন তানভিল ভ‚ইয়া তানভির। তিনি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের ডান হাত হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

প্রভাবশালী এই নেতা একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার, বয়স ৩১ বছর এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অথচ তার পদের বিষয়েও জানতে চাইলে একে অপরকে দ্বোষারোপ করেছেন। কয়েকজন বিবাহিত মেয়ে এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন। তাদের পদ দেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করছেন না আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা। এরা সকলেই চাচ্ছেন, নিজেরা বিতর্কমুক্ত থাকতে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল দেশে ফিরেছেন। তিনি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন, একটা বড়ো সময় ছাত্রলীগকে দেখাশোনাও করেছেন তিনি। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তাতে আরও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে সামনে।