advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

অভিযোগ প্রমাণ হলে বাদ পড়বে ছাত্রলীগের বিতর্কিতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৮:৫৫

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকের নামেই নানা অভিযোগ উঠেছে। কমিটি ঘোষণার পর ওঠা এসব অভিযোগ ও সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষের খবর গেছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানেও। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে অন্যদের ওই সব পদে পদায়ন করতে।

গতকাল বুধবার দুপুরে গণভবনে যান ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং আগের কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তাদের কাছে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির বিষয়ে খোঁজ নেন সংগঠনটির আদর্শিক নেত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে ওই সময় উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সোহাগ ও জাকির প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, কমিটিতে তাদের মনোনীত অনেককেই রাখা হয়নি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের লিস্টের অনেকেই তো আছে এখানে। তোমরা কি আরও চাও? তা হলে এক কাজ করি তোমাদের আগের ৩০১ সদস্যের কমিটিটাই পুনর্বহাল করে দিই। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে চুপ করে যান সোহাগ ও জাকির।

এ সময় অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শোভন ও রাব্বানীকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে ওই পদে অন্যদের পদায়ন কর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে বলেন, আপা (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। কয়েকটি পদে যাদের নামে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেছেন। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদের বাদ দিয়ে সেখানে অন্যদের পদায়ন করতে বলেছেন। জানা গেছে, ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কমিটিতে কমপক্ষে ৪০ জনের নামে নানা অভিযোগ রয়েছে।

বিবাহিত, ছাত্রদল-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, টেন্ডারবাজি, বয়স্ক, রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, চাঁদাবাজি-ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ উঠেছে সদ্য পদ পাওয়া অনেক নেতার বিরুদ্ধে। তবে বিতর্কিত নেতাদের দায় নিচ্ছেন না ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা দায় চাপাচ্ছেন ছাত্রলীগের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের চার কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দীন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল এবং ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক দুই শীর্ষ নেতা সোহাগ ও জাকিরের ওপর। আবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা দায় চাপাচ্ছেন শোভন ও রাব্বানীর ওপর।

বিতর্কিতদের নিয়ে এভাবে ব্লেম-গেম চলছে ছাত্রলীগে। যেমন কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপ-গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন একজন বিবাহিত সাংবাদিক। তিনি একাধারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক। তাকে পদ দিতে কে সুপারিশ করেছে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা আওয়ামী লীগের দুই নেতার নাম বলেন।

আবার আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা বলেন, তারা এগুলো জানেন না। জানে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক চার শীর্ষ নেতা। ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি পদ পেয়েছেন তানভিল ভূইয়া তানভির। তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ডান হাত হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। প্রভাবশালী এই নেতা একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার, বয়স ৩১ বছর এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার পদ পাওয়ার বিষয়েও জানতে চাইলে একে অপরকে দোষারোপ করেছেন দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতারা। কয়েকজন বিবাহিত নেত্রীও এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন। তাদের পদ দেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করছেন না আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা। তারা সবাই চাচ্ছেন, নিজেরা বিতর্কমুক্ত থাকতে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল দেশে ফিরেছেন। তিনি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন, একটা বড় সময় ছাত্রলীগের দেখাশোনাও করেছেন। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তাতে আরও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে সামনে।