advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

খাদ্যে ভেজালে ফের হুশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৮:৫৪

মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব রয়েছে তাদের হুশিয়ারি দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারকে সতর্ক করে আদালত বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আদালত কাউকে ছাড় দেবে না।

গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে দুধ-দইয়ে ক্ষতিকর মাত্রার অনুজীব, টেট্রাসাইক্লিন, কীটনাশক ও সিসার উপস্থিতি নিয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে এ হুশিয়ারি আসে। আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এমআর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক।

দুদকের পক্ষে ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব। শুনানি শুরু হলে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করেন। আদালত ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের গবেষণা প্রতিবেদন না দেওয়ায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান শাহনীলা ফেরদৌসীকে ২১ মে আদালতে তলব করা হয়। নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের দুধ-দই ও গোখাদ্য নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে আদালতে থাকতে বলা হয়েছে তাকে।

ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা রয়েছে তা নিরূপণ করে একটি তালিকা তৈরি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে ২৩ জুন ওই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। গতকাল শুনানির শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব আদালতে বলেন, আমাদের কাছে তো রিপোর্ট আসেনি।

রিপোর্ট না এলে অ্যাকশনে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, কোন কোন কোম্পানির দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যে ভেজাল রয়েছে তা চিহ্নিত করতে চাই। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম এ সময় বলেন, সাব স্ট্যান্ডার্ড বলতেই যে হার্মফুল এমন কিন্তু নয়। তাই সাব স্ট্যান্ডার্ড বিষয়টা নিয়ে ঢালাওভাবে বলে ফেললে মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় বিচারক বলেন, এই যে রিপোর্টগুলো (যে রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন) আপনারা দেখেন? দেখার পর কি আপনাদের বিবেক জাগ্রত হয় না? আপনারা একটু কি টেস্ট করে দেখবেন না?

ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহেই আমরা কমিটি করেছি। এক মাসের মধ্যে সব টেস্ট করে রিপোর্ট দিতে পারব বলে আশা করি। এ পর্যায়ে বিএসটিআইর আইনজীবী হাসান মামুন বলেন, প্রফেসর শাহনীলা ফেরদৌসী (নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান) যে রিপোর্ট করেছেন, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। ওই রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। বিএসটিআই তো একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ডকে মেইনটেইনের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা করে রিপোর্ট বানায়। তিনি (শাহনীলা ফেরদৌসী) তো ঢাকাসহ তিন জেলার ছয়টি উপজেলাসহ ১৮টি স্থান থেকে দুধের পাশাপাশি অন্য নমুনাও সংগ্রহ করে রিপোর্টটি করেছেন। এখানে তো সারা দেশের সামগ্রিক চিত্র নাও উঠে আসতে পারে। আর এসব রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আতঙ্ক তৈরি হয়। বিচারক বলেন, এটা বলতে হবে, মিডিয়ায় এসব ভেজাল বিষয় উঠে আসার কারণেই আমরা বিষয়গুলো জানতে পারি। তাই মিডিয়াকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। তারা বিষয়গুলো সামনে না নিয়ে এলে আমরা তো জানতেই পারতাম না। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। মানুষের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে জীবন থেকে লাভ কী? এসব ব্যাপারে কোনো ছাড় দেব না।

বিচারক বিএসটিআইর আইনজীবীকে বলেন, আপনারা কবে রিপোর্ট দেবেন, কতদিন সময় লাগবে? আইনজীবী ‘এক মাস’ সময় চাইলে আদালত এ সময় জানতে চান, প্রতিবেদনে কী থাকবে? জবাবে আইনজীবী বলেন, আমরা যাদের লাইসেন্স দিয়েছি তাদের নাম, তাদের উৎপাদিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পরীক্ষায় ভেজাল পেলে সে ক্ষেত্রে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরব। এর পর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলামের কাছে আদালত জানতে চায়, তাদের প্রতিবেদন দিতে কত সময় লাগবে?

আইনজীবী বলেন, আমরা একটা ডিটেইল রিপোর্ট দেব। আমাদের এক মাসের মধ্যে সময় লাগবে। এ সময় আদালত প্রতিবেদন দিতে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে ওইদিন পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন রিটটি। দুধ, দই এবং পশুখাদ্যে ভেজাল মেশানোয় কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান জড়িত সে বিষয়ে গত ৮ মে হাইকোর্ট নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা তা দিতে পারেনি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছি। আমরা তাতে বলেছি, এক মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেব। এটা বিশাল একটি কাজ। বিভিন্ন রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। মিটিং করে তা স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর ও নিম্নমানের নিরূপণ করে প্রতিবেদন দিতে হবে। তা ছাড়া আমরা শাহনীলা ফেরদৌসীর প্রতিবেদনটিও সংগ্রহ করব।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনউদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই তাদের প্রতিবেদন দাখিলের সময় দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) প্রধান অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসীকে ২১ মে সাড়ে ১০টায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এনএফএসএল এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর দেখে ১১ ফেব্রুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।