advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

দুদকের সুপারিশ আমলে নেওয়া জরুরি

১৭ মে ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ২৩:৩৯
যাত্রী বেড়েছে, বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজও বেড়েছে। তার পরও গত বছর লোকসান দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। দুর্নীতির কারণে জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বেহাল অবস্থার কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সিভিল এভিয়েশনে ১৯টি খাতে দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। দুদকের পর্যবেক্ষণে পাওয়া বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ ও সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করেছে কমিশন। বিমান-সিভিল এভিয়েশনের যেসব খাতে দুর্নীতি চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিমানের অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টস, বড় অঙ্কের ক্রয় এবং বিমান লিজের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম, ইঞ্জিনের মেজর চেক সাইকেল, মেয়াদোত্তীর্ণ ইত্যাদি হিসেবে, প্যাসেঞ্জার খাতে ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার ও লে-ওভার প্যাসেঞ্জার হিসেবে পরিবর্তন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তা ছাড়া বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিংয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কারণে অনেক বিদেশি মেহমান সেখান থেকে খাবার না নেওয়ায় কোটি কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়। আর বেবিচকে ক্রয়সহ বিভিন্ন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় চুক্তিভিত্তিক অনেক কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা আছে। কিন্তু উন্মুক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগ না করে অবসরপ্রাপ্ত ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। এবং ওইসব কর্মকর্তা প্রায় প্রতিমাসেই কাজে-অকাজে বিদেশে প্রশিক্ষণে যান, এ ছাড়া প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। বস্তুত বিমান ও বেবিচকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের শেষ নেই। অথচ তাদের সেবার মান বৃদ্ধির কোনো প্রয়াস নেই। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানকে টিকে থাকতে হলে সে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার বিকল্প নেই। এদিক থেকে বিমানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অদক্ষতা, অযোগ্যতা আর দুর্নীতি এ সংস্থাটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। যেহেতু দুদক দুর্নীতির খাতগুলো চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে, আমরা আশা করব, দুদকের সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে অবিলম্বে দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।