advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রেসক্রিপশন ছাড়া প্রতিদিন বিক্রি ১০ লাখ পিস অ্যান্টিবায়োটিক

১৮-২৪ নভেম্বর সচেতনতা সপ্তাহ

দুলাল হোসেন
১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ০৯:৪৩
advertisement

দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যেন বেড়েই চলেছে। জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন ৫৪ শতাংশ রোগী। শুধু জ্বর নয় অন্য রোগের চিকিৎসার বেলায়ও প্রয়োজন ছাড়াই যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে অ্যান্টিবায়েটিক। এ অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে। এতে মানবদেহে পরবর্তীতে আর এন্টিবায়োটিক ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে সারছে না রোগব্যাধিও। চিকিৎসকরা জানান, দেশে বর্তমানে প্রতিবছর অন্তত সাড়ে ৩৬ কোটি পিস অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয়। যা চরম উদ্বেগের বিষয়। এ অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর ‘অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ’ পালন করা হয়। কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের ওপর নির্ভর করবে অ্যান্টিবায়োটিকের ভবিষ্যৎ’। বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ এএমআর রেসপন্স এলায়েন্স (বারা) এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করে। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশে প্রেসক্রিশন ছাড়া এন্টিমাইক্রোবিয়ালের ব্যবহার সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ২ লাখ ৩০ হাজার ফার্মেসি রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসা প্রদানকারীর সংখ্যা ২ লাখ। যাদের অর্ধেকের বেশি মানুষই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করছে। প্রতিদিনই প্রেসক্রিপশন ছাড়া অন্তত ১০ লাখ পিস অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সে হিসাবে বছরে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ অ্যান্টিবায়োটিক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শতভাগ ক্রেতা ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে পারলেও ঘুমের ওষুধ ডায়াজিপাম কিনতে পেরেছে মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ। ঘুমের সমস্যায় রোগীকে দোকানদার ঘুমের ওষুধ কেনার পরামর্শ না দিলেও ৫৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাল জ্বরের রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক কেনার পরামর্শ দিয়েছে। এক কথায় অ্যান্টিবায়োটিক বেশি ব্যবহার হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যবহার।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে ৪৭ শতাংশ, সার্জারি বিভাগে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ, গাইনি বিভাগে ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে ৫৪ শতাংশ, সার্জারি বিভাগে ৮১ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ৯৬ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ৫৮ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক, ২৫ শতাংশ মেট্রোনিডাজল এবং অন্যান্য ওষুধ ১৭ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে অন্যান্য ওষুধ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১২ সালে আইসিইউতে পাওয়া ব্যাকটেরিয়া আইসোলেটগুলোর শতকরা ২৫ ভাগ সব অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স পাওয়া গেছে। আইসিইউতে মৃত্যুবরণকারী রোগীদের মধ্যে শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগের শরীরে প্রাপ্ত ব্যাকটেরিয়া আইসোলেটগুলো সুপারবাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশজুড়েই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্সের অবস্থা খুবই খারাপ। অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ৫-১০ বছর আগে খুবই কার্যকর ছিল, সেগুলোর প্রায় কোনোটিই এখন আর তেমন কার্যকর নয়। এ অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হলে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা বন্ধ করতে হবে। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের প্যাকেট লাল রঙের করা যেতে পারে। যাতে করে প্যাকেট দেখেই সবাই বুঝতে পারে এটা অ্যান্টিবায়োটিক। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের প্যাকেটে কমপক্ষে ততগুলো ওষুধ রাখতে হবে যাতে একটি কোর্স সম্পন্ন হয়। তা হলেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স এড়ানো সম্ভব।

advertisement