advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লঞ্চ-স্পিডবোটে করোনা ঝুঁকি
জলযাত্রায় নেই বিধির বাঁধন

আমাদের সময় ডেস্ক
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০১:৪০
advertisement

নৌপথে লঞ্চ চালুর পর থেকেই গাদাগাদি করে গন্তব্যে ছুটছেন যাত্রীরা। বেশিরভাগের কাছে মাস্ক থাকলেও ব্যবহার করছেন না নাক-মুখ ঢাকতে। আর সামাজিক দূরত্ব দূরে থাক, করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষায় কোনো বিধি মানার বালাই নেই। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় যান কম থাকায় ভিড়টা বেশি হচ্ছে। চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

চাঁদপুর : সাধারণ ছুটি বন্ধ ঘোষণার পর গত রবিবার চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে চালু হয়েছে লঞ্চ চলাচল। তবে চতুর্থ দিন গতকাল বুধবার যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কমে এলেও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউই। এমনকি লঞ্চঘাটে জীবাণুনাশক টানেল বসানো হলেও এর নিচ দিয়ে যেতে যেন ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। আর লঞ্চে ওঠার সময় যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হলেও পন্টুুন কিংবা ডেকে গেলে হারিয়ে যায় সামাজিক দূরত্ব। কারও কারও আবার মাস্ক পরতেও অনীহা। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যে ছুটতে হচ্ছে লঞ্চগুলোকে। এ বিষয়ে এমভি ময়ূর লঞ্চের চাঁদপুর ঘাট সুপারভাইজার আলী আজগর বলেন, ‘যাত্রীদের চাপ আগের

 

চেয়ে অনেক কম। তবে আমরা চেষ্টা করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করতে।’ বিআইডব্লিউটিসির চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা কাউসারুল আলম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী পরিবহন করতে। কিন্তু অনেক সময় তা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্য যাত্রীদের অসচেতনতাই দায়ী।’

মুন্সীগঞ্জ : জেলার লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে স্পিডবোট ও লঞ্চযাত্রীদের চাপ এখনো যথেষ্ট। তাই দক্ষিণবঙ্গের এ নৌরুটে হরহামেশাই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়েই পাদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চগুলো। যাত্রীদের অভিযোগ, উত্তাল পদ্মায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে লঞ্চ চলাচল শুধু কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিস্তারই নয়, শঙ্কা জাগায় নৌদুর্ঘটনারও। তবে যাত্রীদের ওপরেই দোষ চাপাচ্ছেন লঞ্চ মালিক সমিতির লোকজন। তাদের দাবি, ধারণক্ষমতার বেশি কোনো যাত্রী বহন করা হচ্ছে না। শিমুলিয়াঘাটে লঞ্চ ভিড়লে ভিতরে থাকা যাত্রীরা সামনে চলে আসে। ফলে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। আসলে যাত্রীরাই সচেতন না। লঞ্চচালক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘যাত্রীরাই কোনো কিছু মানছেন না। কোনো কিছু বললেই তারা ক্ষেপে যায়। তাদের তো আর টেনে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া যায় না। তারা সচেতন হলেই তো আমরা সচেতন।’

এদিকে স্পিডবোটেও সামাজিক স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। অধিক লাভের আশায় সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ১৮ থেকে ২০ যাত্রী নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন চালকরা। ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। মাওয়া নৌফাঁড়ির আইসি ও পরিদর্শক সিরাজুল কবীর জানান, স্পিডবোট-লঞ্চের চালক ও মালিকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। তার চাইলেই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাচল করতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক দূরত্ব না মানলে নিয়মিত মামলা রুজু হবে। তিনি আরও জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ৮৭টি লঞ্চ ও সাড়ে চারশ স্পিডবোট চলছে। এ ছাড়া ১২টি ফেরিতে করে চলছে স্বভাবিক পারাপার। ঘাটেও কোনো যানজট নেই। গাড়ি এলে সঙ্গে সঙ্গেই ফেরিতে উঠে যাচ্ছে।

মানিকগঞ্জ : রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া ফেরিঘাট। এ নৌরুটে প্রতিদিন লঞ্চ ও ফেরি দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও লাখো সাধারণ যাত্রী পদ্মা পাড়ি দেন। ঈদ মৌসুমে সেই চাপ বৃদ্ধি পায় কয়েকগুণ। তবে বুধবার ছিল তার একেবারেই ব্যতিক্রম। যেখানে ফেরির অপেক্ষায় যানবাহন ও যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে উল্টো অপেক্ষায় ফেরি। ঘাট এলাকাও ছিল ফাঁকা। বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিল্লুর রহমান জানান, বহরে ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৫টি চলাচল করছে। তবে ঘাটে কোনো যাত্রী ও যানবাহনের চাপ নেই। আরিচা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) ফরিদুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৫টি ও আরিচা-কাজীরহাট রুটে ১৮টি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে লঞ্চঘাটেও যাত্রীর কোনো চাপ নেই। স্বাভাবিক সময়ের চাইতে অনেক কম যাত্রী পারাপার হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, করোনার এ সময়ে যাত্রীদের জন্য ঘাটে জীবাণুনাশক স্প্রে, সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাস্ক না পরলে কাউকেই লঞ্চে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

advertisement