advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলি
সড়ক-ব্রিজের সংস্কারকাজ বন্ধ

মো. হানিফ মিয়া আমতলী (বরগুনা)
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২১:৫৩
advertisement

দুই দপ্তরের ঠেলাঠেলিতে বরগুনার আমতলী ও তালতলী আঞ্চলিক সড়কের আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ ও ১২ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। বেহাল সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, দুই উপজেলার সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক এ সড়কটি। ৩৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ সড়কটির আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর ১৯৮৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে। এই সড়ক ও ব্রিজটি পার হয়ে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। দুই উপজেলার সেতুবন্ধ এ ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা ও তাল॥তলীগামী পরিবহন বাস, যাত্রীবাহী লোকাল বাস, তালতলীতে নির্মাণাধীন আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য কাভার্ড ভ্যান, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেট কার, মাহেন্দ্র্র, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল ও পারাপার করে। এরই মধ্যে ওই বেহাল সড়কটি ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কার না করায় এখন আর ওই সড়ক ও ব্রিজ দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন চলাচল ও পারাপার হচ্ছে না।

ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল ও পুরনো ওই ব্রিজ দিয়ে যান পারাপারে বর্তমানে ব্রিজটি নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একাধিকবার ওই ব্রিজের পাটাতন ডেবে আলগা হয়ে সরে গেছে। আবার তা কোনো রকমে মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এভাবে গত পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যায়। ভাঙার এক মাস পর স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ দায়সারাভাবে এর সংস্কার করেন। সংস্কারের ১৫ দিন যেতে না যেতেই আবারও ওই ব্রিজের পাটাতন পুনরায় ডেবে গেছে। বর্তমানে ব্রিজটিতে কোনো গাড়ি উঠলেই ঠকঠক শব্দ করে নড়ে। তখন মনে হয় এখনি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যাবে। তিন মাস ধরে এ সড়ক ও ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা ডেবে যাওয়া ওই ব্রিজের স্টিলের পাটাতনের ওপর মাটি ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সংস্কার করার কারণে স্বল্প পরিসরে ছোট যানবাহনগুলো পারাপার হচ্ছে। ভারী যানবাহনগুলো পার হচ্ছে না এতে দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

অন্যদিকে ওই সড়ক ও বেইলি ব্রিজটি এভাবে বেহাল পড়ে থাকলেও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠেলাঠেলিতে সড়ক ও ব্রিজটির কোনো সংস্কার কাজ করা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, আমতলী-তালতলী সড়ক ও ব্রিজ সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে সওজ দাবি করে, ওই সড়ক ও ব্রিজ কাগজে-কলমে এখনো তারা পায়নি। ফলে দুই বিভাগের ঠেলাঠেলিতে সড়ক ও ব্রিজের সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা। ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল করতে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেহাল সড়কের কারণে এক বছর ধরে ঢাকাগামী পরিবহন বাস, যাত্রাবাহী লোকাল বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ ও সড়ক জনপথ বিভাগের ঠেলাঠেলিতে সড়ক ও ব্রিজটির সংস্কারকাজ হচ্ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছে এ সড়কে চলাচলরত দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। আসছে বর্ষা মৌসুমের আগে দ্রুত সড়ক ও ব্রিজটি মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।

তালতলী উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী আবুবক্কর সিদ্দিক, মজনু ব্যাপারীসহ একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের ঢাকা, বরিশাল, বরগুনা জেলা শহরসহ কোর্ট, জমি রেজিস্ট্রি, মালামাল ও পণ্য আনতে আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দুই বছর ধরে সংস্কার না করায় হাজার হাজার খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। তারা আরও বলেন, আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি যান পারাপারে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একাধিকবার ব্রিজের পাটাতন ডেবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে ব্রিজটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তিন মাস ধরে সব পণ্যবাহী ট্রাক-পিকআপসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এখানকার ব্যবসায়ীরা বিকল্প নৌপথে পণ্য ও মালামাল তালতলীতে আনছেন।

বরগুনা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়ক ও ব্রিজটির বেহালের বিষয়টি আমি জানি, কিন্তু আমার কিছুই করার নেই। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ওই সড়কটি সওজকে হস্তান্তর না করায় সড়ক ও ব্রিজটি সংস্কার করতে পারছি না।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফোরকান খান বলেন, সড়কের প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত সড়কের কাজ শুরু করা হবে। কিন্তু ব্রিজের বিষয়ে তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে প্রাক্কলন তৈরি করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সরঞ্জামাদি ক্রয় করে তা সংস্কার করা হবে।

advertisement