advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শপথ নিয়েই মমতার কড়া বিধিনিষেধ

আমাদের সময় ডেস্ক
৬ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৫ মে ২০২১ ২২:২৫
advertisement

টানা তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গতকাল বুধবার শপথ নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে শপথ নেন তিনি। শপথ নেওয়ার পরই মমতা জানিয়েছেন, তার প্রথম কাজ হবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। এর পর প্রশাসনিক ভবন নবান্নে গিয়ে তিনি রাজ্যজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অনাড়ম্বরভাবে শপথ অনুষ্ঠান সারেন মমতা। পূর্বপরিকল্পনা এমনই ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন ছিলেন শপথ অনুষ্ঠানে। অধিকাংশই তৃণমূলের শীর্ষপর্যায়ের নেতা। তবে প্রায় সব বিরোধী নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শপথ অনুষ্ঠানে তেমন কাউকেই দেখা যায়নি। তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, কংগ্রেসের সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য, সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা মনোজ টিজ্ঞা প্রমুখকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি বুদ্ধদেব। একমাত্র প্রদীপ ছাড়া আর কোনো বিরোধী নেতাকে দেখা যায়নি রাজভবনে। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে যেভাবে রাজ্যে বিজেপিকর্মীদের ওপর অত্যাচার চলছে তার প্রতিবাদস্বরূপ অনুষ্ঠানে যাননি তিনি। ঘটনাচক্রে, প্রায় একই সময়ে দলীয় কার্যালয়ে এই সংকট সময়ে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার শপথ নিলেন বিজেপি বিধায়ক এবং নেতারা। দিলীপ ছিলেন সেখানেই। ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। শপথবাক্য পাঠ করান দিলীপ। সবাই ডান হাত আগে বাড়িয়ে বলেন,

‘রাজ্যের মানুষের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এই রাজনৈতিক হিংসাকে নির্মূল করার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করব।’

মমতা রাজভবনের থ্রোন রুমে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর পৌঁছান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মমতাকে বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করানোর পর অভিষেকসহ তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেন। মমতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেল রাজ্যপালের স্ত্রীকে। অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার ভোটপরবর্তী হিংসার কথা বলেন রাজ্যপাল। মমতাকে ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করে রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করেন তিনি। এদিকে শপথ নেওয়ার পর টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান মমতা। এর আগে নির্বাচনের জয়ের পরই মমতাকে অভিনন্দন জানান মোদি। যদিও মমতা অভিযোগের সুরে বলেন, ‘এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করেননি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে প্রথমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেই অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পি চিদাম্বরম উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালে মমতার শপথ হয়েছিল রেড রোডে। সেবারও বিজেপিবিরোধী সব নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

প্রথমবারের মতোই এবারও মমতা বিধায়ক না হয়েই মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেন। নন্দীগ্রামে এক সময়ের সহযোদ্ধা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন তিনি। যদিও সেই ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল শিবির। ২০১১ সালে সরকার ক্ষমতায় এলে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষা করেন তিনি। তবে ২০১৬ সালে তিনি নির্বাচনে জিতেই মুখ্যমন্ত্রী হন। এবারও তাকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ রক্ষা করতে হবে।

এবার বিধানসভা নির্বাচনে টানটান উত্তেজনা ছিল। বিজেপি এবার রাজ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। তৃণমূলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেকর্ড ভোটে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।

advertisement