advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের গণতন্ত্র

ড. কাজল রশীদ শাহীন
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫১
advertisement

নির্বাচন মাত্রই গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঐতিহাসিক নয়। ভারত রাষ্ট্রের পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন ছিল সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, কারণ এই নির্বাচন ছিল একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। একই সময়ে আরও চারটি নির্বাচন : ০১. আসাম ০২. তামিলনাড়– ০৩. পদুচেরি ০৪. কেরালা অনুষ্ঠিত হলেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, পুরো ভারতের চোখও ছিল সেদিকে। শুধু কি ভারত, নির্বাচন নিয়ে যাদের আগ্রহ রয়েছে পেশাদারিত্বের জন্য কিংবা ব্যক্তি আগ্রহে- সবাই এই নির্বাচনকে প্রত্যক্ষ করেছেন গভীরভাবে, নানামুখী ভাবনা ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে। দক্ষিণ এশিয়াবাসীর কাছেও এই নির্বাচন ছিল তাৎপর্যবাহী, ভূ-রাজনীতির জন্য সবিশেষ চিন্তা উদ্রেককারী। এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির চলমান প্রবাহ জারি থাকবে, নাকি বাঁকবদল হবে, তারও প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন বীজ উপ্ত ছিল বিধানসভা নির্বাচনে ২০২১-এ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর গণতন্ত্রের জন্যও এই নির্বাচন ছিল মস্ত বড় চ্যালেঞ্জের ও নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার পরীক্ষাগারস্বরূপ। বিবিধ যুক্তি ও কারণেই স্পষ্টত যে, শুধু গুরুত্বর্পূণ নয়, ঐতিহাসিকও বটে এই নির্বাচনÑ সেসব অবলোকনের নিমিত্তেই এই লেখা।

যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর দেশ ভারতের গণতন্ত্রের পথে যাত্রা গর্ব ও গৌরবের। নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা নিরঙ্কুশ। রাজনীতিকদের কাছ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে তীরবিদ্ধ হলেও নির্বাচন কমিশন বৃন্তচ্যুত হয়নি আজও, রেকর্ড নেই কোনোরকমের। এবারের নির্বাচনেও তারা বিশ^াসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, গণতন্ত্রের সবচেয়ে নিয়ামক শক্তি নির্বাচন যে এখনো তাদের হাতে নিরাপদ ও নিরপেক্ষ সেটাও নিশ্চিত করেছে। তাদের এই ভূমিকাও যে নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক করে তুলেছে, তা স্বীকার্য, প্রশংসিত, অভিনন্দিত ও সর্বজনে বরিত।

০১. পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে বিজেপি এবার ছিল মরিয়া। কেন্দ্রের ভোট ছাড়া কোনো বিধানসভা নির্বাচনে জিততে এভাবে মরিয়া হয়ে ওঠেনি তারা, বিশেষ করে যখন তারা কেন্দ্রের ক্ষমতায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাবান। এর পেছনে ছিল তাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা। এখানে এক ঢিলে তারা দুই পাখি নয়, চেয়েছে অনেক পাখি মারতে। ক. রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্নে বিভোর মোদির বিজেপি ও হিন্দু মহাসভা, তার জন্য বড় বাধা পশ্চিমবঙ্গ। খ. পশ্চিমবঙ্গের ম–খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়কে রাজ্য রাজনীতি অপ্রতিহত এক রাজনীতিক। স্থানীয়ভাবে তাকে টেক্কা দেওয়ার মতো রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত হতে পারেনি এখনো। মমতার স্থানীয় রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও প্রভাব কেন্দ্রের রাজনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে মোদি-অমিতদের মধ্যে। গ. মমতার তৃণমূল মডেল ভারতের অন্য রাজ্যগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে এবং উদাহরণ হিসেবে রাজনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করেন রাজনৈতিক মহল। মোদি-অমিত শাহ মনে করেন এসব শঙ্ক-বাধা দূর করতে এবং তাদের তথাকথিত রামরাজত্বের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠায় একটা পথই খোলা রয়েছেÑ সেটা হলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাকাঠামো পরিবর্তন করা এবং বিজেপিকে ক্ষমতাসীন করা।

০২. মোদি-অমিতরা হতে চেয়েছিলেন অর্জুনের তীরের মতো লক্ষ্যভেদী, যদিও তাদের পণ-প্রচেষ্টা ও প্রয়াসে অর্জুনের নৈয়ায়িক পথ নয়, ছিল হিংসা ও বাকোয়াজি। অযৌক্তিক বিভোর ও বেখেয়ালই কি তাদের পরাজয়ের প্রধানতম কারণ নয়? ক. বিজেপি লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনকে একই পাল্লায় মেপেছেন। অথচ দুটোর রাজনৈতিক অভিঘাত যে পুরোপুরি আলাদা তা গেছেন বেমালুম ভুলে। লোকসভা নির্বাচনের আনুপাতিক অঙ্কে তারা নিজেদের জয়কে করেছেন নিশ্চিত ও অকাট্য। এর সঙ্গে যোগ করেছেন মাইন্ড গেম খেলার তত্ত্ব। যোগবাদের এই তত্ত্ব যে রাজনীতির মাঠে বিশেষ করে আমজনতার ভোটের কাছে অসহায় ও অযৌক্তিক তা বোধ করি হয়েছে পষ্ট ও পরিষ্কার। মোদি-অমিত প্রথম থেকেই বলে আসছেন এবারের নির্বাচনে তারা দু’শ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন। কিন্তু কেন, কীভাবে, কোন যুক্তিতে তা খোলাসা করার প্রয়োজন বোধ করেননি। করোনাপীড়িত এই সময়ে ও রাজ্যবাসীর অনাগ্রহ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা না চাওয়ার পরও আট দফায় ভোট নেওয়ার নেপথ্যে কি মাইন্ড গেম থিওরিই মুখ্য ছিল? সর্বশেষ দফা ৩০ এপ্রিলের ভোটের প্রচারণাতেও বিজেপি একই গীত গেয়েছে দু’শ আসনে জয়ী হচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে তার অর্ধেক আসনও মিলল না তাদের, সত্য হলো পেশাদার ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী, ‘তিন অঙ্কে’ ছুঁতে না পারার চ্যালেঞ্জ। এসবই এই নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে করেছে হাজের-নাজেল।

০৩. বিজেপি এই নির্বাচনে কেন এতটা আত্মবিশ^াসী ছিল, হয়তো রহস্যময়ই থেকে যাবে। তারা কি মনে করেছিল মমতাবিরোধী রাজনৈতিক শূন্যতা ক্ষমতাসীন করবে তাদের? বিজেপি নির্বাচন-পূর্ববর্তী ভোটের রাজনীতির মহড়া যথাযথভাবে সম্পন্ন তো করেনি, এ ব্যাপারে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনও দেখায়নি। তৃণমূল থেকে দলছুট হয়ে আসা নেতারা তাদের ক্ষমতা অর্জনের স্বপ্ন পূরণ করবে, ভোটের রাজনীতির এই দুর্বলতম অঙ্কে তারা কেন আস্থা রাখল তা শুধু পরিষ্কার নয়, প্রহেলিকাও বটে। পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করে বিজেপি এগোচ্ছে অনেকদিন ধরেই, তাদের আদর্শের অনুসারী সংখ্যা বাড়েনি সেই মোতাবেক। বাড়লে দলখেদাদের দিয়ে তাঁবু ভরতে হতো না, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস কি তেমন কিছুই করতে পারেনি।

০৪. বিজেপির প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল মস্ত বড় এক গোলকধাঁধা। তারা হয়তো খেয়ালই করিনি, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ভারসাম্য ও নিরপেক্ষ এক বাস্তবতা থাকা জরুরি। ক্ষেত্রবিশেষে তারা বিরোধী দলের মতো বয়ান দিয়েছেন, অথচ জনগণ দেখছেন তারা তো ক্ষমতায় তাহলে তারা এ ব্যাপারে কেন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কিংবা এতদিনও নেয়নি। কেন্দ্রের সরকারের তো কোনো কিছু করতে কোনো বেগ অথবা বাধা পেতে হয় না, যদি হয় সেটাও দৃশ্যমান করতে হবে জনগণের কাছে, তা না হলে গালভরা বুলি বৈ অন্যকিছু মনে করবে না ভোট রাজনীতির একদিনের রাজারা। ক. নরেন্দ্র দামোদর মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন যদি জয়ী হন তার প্রেক্ষিতে, খ. পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন করবেন যদি পাস করেন, গ. পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার চালু করবেন যদি বিধানসভায় ক্ষমতাসীন হন. ঘ. ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধার যে তত্ত্ব হাজির করেছেন তাতে শিল্পসহ নানা কিছু করবেন যদি ভোটে পাস করেন। এসব করবেন নীতির কারণেই বিজেপি সম্ভবত ক্ষমতায় গেলে মুখ্যমন্ত্রী কাকে করবেন সে ব্যাপারে পষ্টাপষ্টি কিছুই বলেননি, যা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও হেঁয়ালিপূর্ণ।

০৫. পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচন দ্বিদলীয় রাজনীতিকে গতিশীল করলেও উভয়ই ছিলেন যুদ্ধংদেহি, মারমুখী। বিশেষ করে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপির কাছে প্রত্যাশিত উদার ও সহিষ্ণু রাজনীতির অনুপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে প্রবলভাবে। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ই যে ভারতমাতার সন্তান এবং তার শোনিত প্রবাহে শুধু গণতন্ত্রের প্রতি পক্ষপাত ও সংহত অবস্থানই চর্চিত হয় না, হাজার বছরের ঐতিহ্যে রয়েছে ভিন্ন মতাদর্শী ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের বিচিত্রতাকে সঙ্গী করে একত্র বসবাসের মানবিক এক ইতিহাস। এই নির্বাচন সেসব নিয়ে নতুন করে ভাবা ও মূল্যমান নির্ধারণের যৌক্তিকতাকে শুধু হাজির করেনি, করেছে অনিবার্য।

০৬. বিধানসভা নির্বাচনে মোদি-অমিত জুটি শুধু দলখেদাদের নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়নি, মমতার নেওয়া ও গৃহীত বেশকিছু কার্যক্রম ও প্রকল্পকে তারা একটু এদিক-ওদিক করে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে হাজির করেছে। অমিত শাহ তো নির্বাচনের প্রায় পুরোটা সময়ই পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন, উপরন্তু মোদির আসা-যাওয়া ছিল মাত্রাতিরিক্ত। কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থান দেখে যে কারও মনে হতে পারে তাদের বোধ করি নির্বাচন পরিচালনা করা ছাড়া কোনো কাজ নেই। যখন দেশজুড়ে চলছে করোনা মহামারীর তা-ব, দিল্লিতে কৃষকদের অনড় অবস্থান ইত্যাদি ইত্যাদি। জনগণ এটাকেও ভালোভাবে নেয়নি, যৌক্তিকও নয় সেটা।

০৭. মোদি-অমিতের এই প্রয়াস ও প্রচেষ্টাকে প্রজ্ঞা-পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতার আলোকে মোকাবিলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হাল ছাড়েননি। কোনোভাবেই দুর্বল হননি কিংবা মাইন্ড গেমকে আমলে নেননি। ফলে একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একজন মুখ্যমন্ত্রীর, একটা সর্বভারতীয় দলের সঙ্গে একটা আঞ্চলিক দলের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন মমতাই। অবশ্য মোদি ও মমতার এই লড়াইয়ে খোদ পশ্চিমবঙ্গ তৃতীয় পক্ষ হয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের আর দশটা রাজ্যের মতো নয়, এর রয়েছে সুদীর্ঘ এক ইতিহাস। যার পরতে পরতে রয়েছে মানবিকতার জয়গান। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা, যার ইতিহাস ভারতের যে কোনো শহরের তুলনায় আলোকোজ্জ্বল-ঐশ^র্যম-িতও বটে। কলকাতা এক সময় পুরো ভারতের সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-অর্থনীতির ভরকেন্দ্রে ছিল। একটা হ্যাঁচকা টানে কলকাতার কেন্দ্রীয় রাজধানীর মর্যাদাকে লুণ্ঠিত ও অপনোদন করা গেলেও, বাকিগুলো তো সম্ভব হওয়ার নয়, হবেও না। সেই কলকাতা- সেই পশ্চিমবঙ্গ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ছিল সাইলেন্ট ফ্যাক্টর। দ্বিদলীয় বৃত্তের মধ্যে থেকে তাদের শিক্ষা-ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-ন্যায়বোধ-মানবিকতা সর্বোপরি ভক্তিবাদ ও সাধনার সুমহান দীক্ষা যে বা যার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বলে মনে হয়েছে, তাদেরই তারা দিয়েছেন বিজয়মাল্য। এবং সেটা কতটা গভীর-গভীরতর চেতনা থেকে উৎসারিত, তা বোঝা যায়, যখন দেখা যায়, স্থানীয় অন্যান্য দলের ভোটও এক বাক্সে এসেছে এবং বিজয়কে নিঃসংশয় ও নিশ্চিত করেছে।

০৮. পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আরও একটা বিষয় স্পষ্ট ও তাৎপর্যবাহী যে, মোদি ও অমিত শাহ জুটিকে ভোট রাজনীতি ও নির্বাচনী মাঠের যতটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও ক্যারিশম্যাটিক খেলোয়াড় মনে করা হয়, বোধ করি ততটা নয়। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এ মুহূর্তে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বশূন্যতা প্রকট ও হতাশ হওয়ার মতো। এ সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়েছেন তারা, হয়েছেন হিরো, পেয়েছেন বিশেষণ ভরা তকমা, বাস্তবতা বোধ করি ততটা নয়। মমতা দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে লড়াই করতে হয়, কী প্রকারে জীবন বাজি রাখতে হয়, কতটা বন্ধুর অবস্থানে দাঁড়িয়েও ভোটযুদ্ধের সিপাহসালার হিসেবে নিজের দায়িত্বটাকে বহন করে যেতে হয়, ভারতীয় রাজনীতির ভরকেন্দ্রে কি এই মুহূর্তে তেমন কেউ আছেন, নেই।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় গণতন্ত্রই জয়ী হয়েছে এবং এখানেই এই নির্বাচনে গুরুত্ব ও ঐতিহাসিকতা। এই নির্বাচনের পরতে পরতে রাজনীতি-সমাজনীতি-অর্থনীতি-ধর্মনীতি-জননীতি-শিল্পনীতি-গণমাধ্যমনীতি-ব্যক্তিনীতি সর্বোপরি দেশপ্রেম এতটা শক্তপোক্তভাবে জারি ছিল যে, যা অতীতে দেখা যায়নি এভাবে ও এ প্রকারে। ফলে, এই নির্বাচন শুধু নির্বাচনিক গুরুত্বে নয় ঐতিহাসিক কারণেও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে, আগামীর দিনগুলোতে-দীর্ঘসময় ধরে।

ড. কাজল রশীদ শাহীন : সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক

advertisement