advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অর্থনীতির মন্দাভাব কাটাতে পরিকল্পনা চাই : ঈদবাজার বিপর্যয়

৯ মে ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫১
advertisement

দেশে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য হয় ঈদুল ফিতর ঘিরে। করোনার সময় লকডাউনের কারণেই পর পর দুই বছর ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুই ঈদ ও দুটি বাংলা নববর্ষ ব্যবসা ছাড়া পার হচ্ছে। বেশিরভাগ খাতেই বছরের ব্যবসার অর্ধেকই হতো ঈদ ঘিরে। আর এই চার উপলক্ষের ক্ষতিতে প্রত্যেক বিক্রেতার পুঁজির সংকট দেখা দিচ্ছে। আমাদের ঈদ অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকের বাজার প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার। ভোগ্যপণ্যের বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকার। আর পরিবহন খাতে লেনদেন হয় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে ঈদের সময় জাকাত ও ফিতরার ৭০ হাজার কোটি ও ঈদ বোনাসের ১৫-২০ হাজার কোটি টাকা ঈদবাজারে নগদ সরবরাহ হতো। কেনাকাটায় চাঙ্গাভাব তৈরি করত। আদতে দুই বছরের মন্দার ধাক্কা ছোট-বড় সব শিল্পবাণিজ্যেই লেগেছে। আর এবার মনে হচ্ছে, এতে দেশের অর্থনীতিই মন্দার কবলে পড়বে। সরকার যদিও পর পর দুই বছর শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সহায়ক প্রণোদনা দিয়েছে, তবু সংকট ঘনীভূত হচ্ছে বলেই অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন। এর বড় কারণ হলো, বাজারে যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা রয়েছেনÑ তাদের কাছে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছায়নি ঠিকভাবে।

ক্রেতার আয় যদি কমে যায়, তা হলে এর প্রভাব তো বাজারে পড়বেই এবং পড়ছেও। বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমছে, কারিগর ও শ্রমিকদের কাজও কমে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এক অশুভচক্র তৈরি হয়েছে। আমাদের মনে হয়, বেসরকারি খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাকে সক্রিয় করে তোলার জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, বাজার বিশ্লেষকদের সহযোগিতায় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এনজিওসহ সেবা ও পরামর্শক পর্যায়ের অনুৎপাদনশীল খাতের বিপুল কর্মী-ক্রেতার ভাগ্য নিয়েও ভাবা দরকার। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্রমহ্রাসমান উপার্জনের কথা ভেবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। মোট কথা, বাজারে ক্রেতার সংখ্যা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি করতে হবে। নয়তো অর্থনীতির মন্দাভাব আরও গভীর হয়ে পড়বে। একমাত্র কৃষি খাতের জোরে এটি ধরে রাখা যাবে না।

একটি কথা মনে রাখা দরকার, করোনা বিপর্যয়ে গত ১৪ মাসে বাংলাদেশের গ্রাম ও নিম্নআয়ের দরিদ্র মানুষ তেমন আক্রান্ত হয়নি। তারাই অনেকাংশে অর্থনীতির চাকা ও বাজারের গতিশীলতা বজায় রেখেছেন। কিন্তু কোনো কারণে ভারতের ডবল মিউটেন্ট ভাইরাস যদি আমাদের দেশে এসে পড়ে, তা হলে সেটি গ্রামে ও দরিদ্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ ভারতে তেমনটিই ঘটেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে হবে। কেবল নির্দেশনা দিয়ে কাজ সারা যাবে না।

advertisement