advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন ফিজ

সুসান্ত উৎসব
৯ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মে ২০২১ ২৩:৫১
advertisement

আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। করোনার কারণে মাঝপথেই ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে গেলে দেশে ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে আছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি এ পেসার। গতকাল মুঠোফোনে আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন কাটার মাস্টার- কোয়ারেন্টিন কেমন কাটছে?

ফিজ : এটি কারও জন্যই ভালো নয়। কিন্তু কিছু করার নেই। নিয়ম তো মানতেই হবে।

ঢাকাতে থাকার পরও কোয়ারেন্টিনের কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবেন না। এটি ভেবে খারাপ লাগছে নিশ্চয়ই?

ফিজ : খারাপ তো লাগছেই। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ঈদের সময় বিদেশ সফরে থাকলে খারাপ লাগত না। কিন্তু এবার তো দলের সঙ্গে নেই। কোয়ারেন্টিনের কারণে হোটেলে থাকতে হচ্ছে...।

আপনার স্ত্রী শিমুর কি মনে হচ্ছে ভারত না গেলেই ভালো হতো! তা হলে অন্তত ঈদের সময়টা এভাবে পরিবার ছাড়া থাকতে হতো না?

ফিজ : একদিক থেকে ঠিকই আছে। একদিক থেকে না।

খেলোয়াড়দের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় হঠাৎ করেই আইপিএল বন্ধ করা হয়েছে। যখন শুনতে পেলেন কি মনে হয়েছিল?

ফিজ : এমনিতে করোনা ভাইরাস তো সব দেশেই আছে। ইন্ডিয়াতে প্রকোপটা এখন একটু বেশি। একটু টেনশন তো কাজ করতই সব সময়। একটা টিমে করোনা ধরা পড়েছে। এখন খেলা চালিয়ে গেলে অন্য দলগুলোও তো আক্রান্ত হতে পারত। তখন কিন্তু সব দলই বিপদে পড়ে যেত। ২-৩ জনের ধরা পড়েছে, তারা আলাদা হয়ে আছে। খেলা তো সবার সঙ্গেই কমবেশি হয়েছে। আমরা শেষ পাঁচ দিনের মতো রুমের বাইরে বের হয়নি। খাবারও রুমেই দিয়ে যেত।

আইপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ আপনারা কখন জেনেছেন?

ফিজ : বিসিসিআই থেকে যখন জানানো হয়েছে, মানে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে- আমরা তার আধাঘণ্টা আগে জেনেছি।

৭ ম্যাচে ৮ উইকেট পেয়েছেন। নিজের পারফরম্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ফিজ : আমি খারাপ বলব না। ভালোর দিকে। আমার আরও কাজ করা লাগবে। ওভারঅল এবারের আইপিএল ভালোই গেছে।

আপনার বোলিংয়ে বেশ বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে এবার। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?

ফিজ : প্রথমত আমার নিজের পরিশ্রম। নির্দিষ্ট কোনো একজন কোচের নাম বলব না। আমি ন্যাশনাল টিমে থাকলে পুরো কোচিং স্টাফ, আমি বলব সবার অবদান আছে।

বোলিং করার সময় আপনার পরিকল্পনা কী থাকে?

ফিজ : আমি নরমালি টি-টোয়েন্টিতে চেষ্টা করি কী করলে বলটা ডট দিতে পারব। টি-টোয়েন্টিতে ছয়-চার হবেই। আবার উইকেটেও তো সব সময় বোলারদের হেল্প থাকবে না। ২০০ প্লাস রানের উইকেটও থাকবে। ১-২টা ব্যাটসম্যান দাঁড়ায় গেলে এমনিতেই ২০০ রান হবে। ওইটাই সব সময় চেষ্টা থাকে ইকোনমিক্যাল বোলিং করার।

আপনার ৮ উইকেটের মধ্যে ‘স্পেশাল’ কোন উইকেট আছে?

ফিজ : কোনো নির্দিষ্ট নেই। সব উইকেটই আমার কাছে স্পেশাল। সব উইকেটই সমান।

রাজস্থানের বোলিং কোচের (রব ক্যাসেল) সঙ্গে আপনার বোলিংয়ে উন্নতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নিয়ে কাজ করেছেন কি?

ফিজ : খেলতে গেলে কিছু কাজ তো করতে হবেই। কিছু তো শেয়ার করবেই। কিছু কিছু প্ল্যান তো সবাই কমবেশি দেবেই। নেটে বোলিং করার সময় যেভাবে বলেছে, সেভাবে চেষ্টা করেছি। আহামরি কোনো পরিবর্তন না যে, আমাকে গ্রিপ ধরে শেখায় দেবে- এ রকম না। আমার নিজের চেষ্টাটাই ছিল সবচেয়ে বেশি আর বাইরের টুর্নামেন্ট খেললে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। চেষ্টা করেছি যতটুকু পারা যায় শেখার। আমি আমাদের পেস বোলিং কোচ গিবসনের সঙ্গে কাজ করেছিলাম; বিশেষ করে ইন সুইং। ওটা নিয়েই বেশি কাজ করার চেষ্টা করেছি। নতুন বলে বল করলে যেন ইনসুইংটা করতে পারি অ্যাটলিস্ট ১-২ ওভার যেন ভালো শেপে যায়। এ ছাড়া আমার মূল শক্তি তো কাটার। কাটার নিয়েও নেটে কাজ করেছি। কী করলে আরও ভালো করতে পারবÑ এ আর কী।

কলকাতার সঙ্গে আপনাদের ম্যাচ ছিল। ওই দিন সাকিবের সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল। সাকিব আপনাকে কিছু বলেছিল নিশ্চয়ই?

ফিজ : গল্প করলাম। অনেক কথাই হয়েছে। এমনিতে বলেছে আমার বোলিং ভালো হচ্ছে।

হায়দরাবাদ, মুম্বাইয়ের চেয়ে এবার রাজস্থান দলের সঙ্গে আপনাকে বেশি উৎফুল্ল মনে হয়েছে। কারণটা কী?

ফিজ : অনেক দিন ধরেই খেলছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে এটিই তো স্বাভাবিক।

রাজস্থান দলে আপনার কার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভালো সম্পর্ক হয়েছে?

ফিজ : আমরা ২৬-২৮ জনের মতো ছিলাম। সবার সঙ্গেই কমবেশি কথা হতো। একজন ভারতীয় কোচ ছিলেন। এ ছাড়া ট্রেনার রাজামনির সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন এবং মিলারের সঙ্গেও মধুর সম্পর্ক ছিল।

ম্যাচ এবং অনুশীলনের বাইরে বাকি সময়টা কীভাবে কাটত?

ফিজ : বায়ো বাবলে ছিলাম তো, এমনিতে সবার সঙ্গে কমবেশি দেখা হতো। নির্দিষ্ট একটা সময় রুম থেকে বের হতাম। পুলের পাশে বা যেখানে ডাইনিং ছিল তার পাশে সবাই আসত। এ ছাড়া রুমে থাকলে টিভিতে খেলা দেখে সময় কাটত।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে বলে মনে করছেন?

ফিজ : বিশ্বকাপ অনেক দূরে। আমি চেষ্টা করেছি ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা বোঝার। ওখানে রান হবে এমন উইকেটও আছে। তো রানের উইকেটে কীভাবে ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সফল হতে পারব এটি বোঝার চেষ্টা করেছি। দেখা হলে এটি আমার টিমমেটদের সঙ্গে শেয়ার করব।

advertisement