advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কোথায় মাথা গুঁজবেন বিধবা রহিমা বেগম

গাজীপুর সদর প্রতিনিধি
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২১:৩৬
advertisement

গাজীপুরের শ্রীপুরের নিজমাওনা গ্রামের রহিমা বেগম (৬০)। হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠার পর একই এলাকার দিনমজুর আবদুল মালেকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার। স্বামীর সম্বল বলতে ছিল টিনঘেরা একটি ঝরাজীর্ণ ঘর। দুই ছেলে সন্তান রেখে আবদুল মালেক পরপারে পাড়ি দিয়েছেন ১৫ বছর হয়ে গেল। অকূল সাগরে ভেসে বেড়ানো রহিমা বেগম শ্রম বিক্রি করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। তাদের বিয়েও দিয়েছেন। জীর্ণ ঘরটির চারপাশে মাটির দেয়াল তুলে ওপরে টিনের ছাপড়া দিয়ে কোনোমতে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। গত রবিবার দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখীর সামান্য ঝড়ো বাতাসে তার মাটির ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এরপর থেকেই তার বসবাস খোলা আকাশের নিচে। এই অসময়ে ঘর ভেঙে যাওয়াটা তার জন্য আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। খুবই হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। তার চিন্তা- বৃষ্টি এলেই মাটির দেয়াল ধসে পড়বে। তার ঘরটি মিশে যাবে মাটির সঙ্গে। তখন কোথায় মাথা গুঁজবেন তিনি। শরীরে অসুস্থতা ভর করায় আর কাজ করতে পারছিলেন না রহিমা। রহিমা বেগম জানান, ছোটকাল থেকেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার দিনগুলো অতিবাহিত হচ্ছে। এ সংগ্রাম যেন তার প্রতিটি দিনের সঙ্গী। এভাবে যুদ্ধ করে খাবারের জোগান নিশ্চিত করলেও এখন যেন আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। ঝড়ো বাতাসে তার ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। এখন যদি বৃষ্টি আসে তাহলে মাটির দেয়ালগুলো ধসে পড়বে।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য জাকির হোসেন বলেন, সংগ্রামী নারী এই রহিমা। তিনি স্থানীয় বাজারে সবজি বিক্রি করে জীবন ও জীবিকা অতিবাহিত করেন। ঝড়ে তার ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় মানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তার আশ্রয় খোলা আকাশের নিচে। তার ঘর মেরামতে সাহায্য-সহায়তা প্রয়োজন। শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, অসহায় হয়ে পড়া এই নারীকে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তার ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে।

advertisement