advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাই বেশি আক্রান্ত

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের গবেষণা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:০৯
advertisement

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৩ শতাংশ হচ্ছেন উচ্চ রক্তচাপের রোগী। এর পর সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন ডায়াবেটিস রোগীরা। আক্রান্তদের প্রায় ১৬ শতাংশের শরীরে আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল। শ্বাসকষ্টের সমস্যা যাদের আগে থেকেই আছে, তাদের মধ্যে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার হার ৯ শতাংশ। আর হৃদরোগী আক্রান্ত হচ্ছেন ৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একদল চিকিৎসকের গবেষণায় এই তথ্য উঠেছে এসেছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা দলের ফোকাল পারসন ও মেডিসিনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. আব্দুর রব মাসুমের নেতৃত্বে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দলে আরও ছিলেন একই হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট এইচএম হামিদুল্লাহ

মেহেদী, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান, সাউথ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহযোগী এমএ কবির চৌধুরী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহকারী সার্জন ডা. অমি দেব ও এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা ডা. মোরতাহিনা রশিদ।

২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৬ মাস ধরে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১ হাজার ৫৩০ জনের এন্টিবডি পরীক্ষা করে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেন গবেষকরা। মানুষের শরীরে করোনার এন্টিবডির উপস্থিতি এবং এর স্থায়িত্ব অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই গবেষণাটি করা হয়।

চট্টগ্রামে আরটিপিসিআর টেস্টে করোনা নেগেটিভ হওয়া ২৬ শতাংশ রোগীর শরীরে করোনার এন্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। পজিটিভ হওয়া রোগীদের মধ্যে যার পরিমাণ ৮৮ শতাংশ। যে ১ হাজার ৫৩০ জনের নমুনাকে ঘিরে এই গবেষণা, তার মধ্যে ৯৪১ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি এবং ৫৮৯ জন করোনা নেগেটিভ হওয়া ব্যক্তি।

গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশ পুরুষ (৭৫ শতাংশ) এবং চাকরিজীবী (৭০ শতাংশ)। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের প্রধান লক্ষণগুলো ছিল জ্বর (৯২ শতাংশ), কাশি (৬৩ শতাংশ), ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়া (৫২ শতাংশ)। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই আগে থেকে ডায়াবেটিস (১৫ শতাংশ), উচ্চ রক্তচাপ (২৩ শতাংশ), শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা (৯ শতাংশ) এবং হৃদরোগ ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর তাদের প্রায় ৫৭ শতাংশের কোনো না কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন বিদ্যমান ছিল।

গবেষক দলের প্রধান ডা. আব্দুর রব আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের গবেষণায় পাওয়া তথ্যানুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁঁকিতে রয়েছেন উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা। এর পর সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন শ্বাসকষ্টের রোগীরা। আর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন হৃদরোগে আক্রান্তরা। এই চার রোগে আক্রান্তরা ৫৩ শতাংশ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বাকি ৪৭ শতাংশ অন্যান্য রোগী। তিনি বলেন, করোনায় কারা ঝুঁঁকিতে আছে- সেটা ছাড়াও আরটিপিসিআর পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ও নেগেটিভ হওয়া মিলে ৬৫ শতাংশের শরীরে এন্টিবডি পাওয়া যায়। তবে পজিটিভ হয়ে সুস্থ হওয়ার পর অনেকের শরীরে এন্টিবডি ছিল না। পজিটিভ হওয়া ৯৪১ জনের মধ্যে ১০৭ জন এবং নেগেটিভ হওয়া ৫৮৯ জনের মধ্যে ৪৩৬ জনের শরীরে এন্টিবডি পাওয়া যায়নি। গবেষণায় পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল ৭৬ শতাংশ। বাকিরা ছিলেন নারী।

advertisement