advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ফেতরা গরিব দুঃখীদের মুখে হাসি ফোটায়

মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব
১২ মে ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ মে ২০২১ ২২:৪৩
advertisement

জীবন নির্বাহের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মালিক প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ফেতরা দেওয়া ওয়াজিব। যব, খেজুর, কিশমিশ, পনির ও গম-আটা বা এর বাজার মূল্যে ফেতরা আদায় করা যায়। গম বা গমের আটার মাধ্যমে ফেতরা আদায় করলে আধা সা (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং যব, খেজুর, কিশমিশ, পনিরের মাধ্যমে হলে এক সা (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) আদায় করতে হবে। অথবা এর মূল্য আদায় করলেও চলবে (দুররুল মুখতার ও ফতোয়ায়ে আলমগিরি)।

এ দিকে এ বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার

৩১০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৭০ টাকা নির্ধারণ করেছে। জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইসলামি শরিয়াহ মতে গম, আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যব ইত্যাদি পণ্যগুলোর যে কোনো একটির মাধ্যমে ফেতরা দেওয়া যাবে। গম বা আটা দিয়ে ফেতরা আদায় করলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৬৫ টাকা আদায় করতে হবে। আর খেজুর দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২০০০ টাকা, কিশমিশ দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১ হাজার ৪৮৫ টাকা এবং পনির দিয়ে আদায় করলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা ফেতরা আদায় করতে হবে। ফেতরা প্রদানকারী নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ফেতরা আদায় করতে পারবেন।

দ্বিতীয় হিজরি সনে ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে ইসলামে সর্বপ্রথম ফেতরার বিধান দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) রোজার শেষে বললেন, তোমরা ফেতরা আদায় করো। রাসুল (স) এক সা খেজুর, যব অথবা আধা সা গমের মাধ্যমে ফেতরা আদায় মুসমিল নারী-পুরুষের ওপর বাধ্য করেছেন (আবু দাউদ)। ইবনে আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণিত রাসুল (স) ফেতরা আদায় করতে বলেছেন, যাতে অনৈতিক কথা ও কাজ থেকে রোজাকে পরিশুদ্ধ করে ফেতরা গরিব দুঃখীর অধিকারও (আবু দাউদ শরিফ)।

হজরত আনাস (রা) সূত্রে বর্ণিত রাসুল (স) অন্যত্র বলেছেন, দান সদকার মাধ্যমে আল্লাহর রাগ প্রশমিত হয় এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়া যায় (তিরমিজি)। ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে ফেতরার মানবিক দিকটিও উল্লেখযোগ্য। ফেতরার সামান্য অর্থে গরিব-দুঃখীরা ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। হাসি ফোটে নিঃস্ব অসহায়ের মুখে।

লেখক : সম্পাদক, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম

advertisement