advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে হবে

৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মুহম্মদ আকবর, খুলনা থেকে
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০০
advertisement

বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে আলেম ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ওসমানী মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আয়োজনসহ খুলনা, সিলেট ও রংপুরে মডেল মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্পৃক্তদের সঙ্গে যুক্ত হন।

মডেল মসজিদ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ছাড়া খুলনা, সিলেট ও রংপুরেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মসজিদ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রান্তে উপস্থিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুসল্লিদের কাছ

থেকে তাদের অনুভূতি শোনেন।

উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু লোক জঙ্গিবাদ তৈরি করে, মানুষ হত্যা করে, বোমা মেরে, খুন-খারাবি করে আমাদের এই পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করেছে। যেটি আমাদের ধর্মের পবিত্রতাকেই কেবল নষ্ট করছে না, এর ইমেজটাও নষ্ট হচ্ছে সারাবিশ্বে। আন্তর্জাতিকভাবে যেখানে

যে সম্মেলনে গেছি, যখনই কেউ এ ধরনের কথা তুলেছে, আমি সব সময় সে জায়গায় তার প্রতিবাদ করেছি। মুষ্টিমেয় লোকের কারণে কোনো

ধর্মকেই অপরাধী করা যায় না।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের এই মডেল মসজিদের মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার হবে। ইসলামিক সংস্কৃতি প্রচার হবে। ইসলামের মর্মবাণী দেশ-বিদেশের সব ধর্মের মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে। ইমাম মুয়াজ্জিনদের জীবন-মানোন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। তারা যেন বিশেষ সুবিধা পান। ঋণ নিতে পারেন, অনুদান নিতে পারেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি ছিল না, আমরা তার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছি। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। ইসলাম প্রচার-প্রসারে যা যা করণীয় আমরা সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। হজযাত্রীদের জন্য সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানের শুরুতে ওসমানী মিলনায়তন প্রান্তের অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন কারি মোহাম্মদ আতাউর রহমান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব নুরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, এই প্রথম মুসলিম বিশ্বের কোনো দেশের সরকার একসঙ্গে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করছে। এটি একটি অনন্য ও যুগান্তকারী ঘটনা।

খুলনা আলিয়া মাদ্র্রাসা প্রাঙ্গণ প্রান্তের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক হেলাল উদ্দিন, রংপুরের বদরগঞ্জ প্রান্তের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং সিলেটের দক্ষিণ সুরমার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হক।

২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার আট হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিককেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গতকাল ৫০টির উদ্বোধন হলো। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১০০টি মসজিদের কাজ শেষ হবে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

advertisement