advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তিন বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে

আবু আলী
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ০৮:২৬
প্রতীকী ছবি
advertisement

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্ত দ্বিতীয়বারের মতো পূরণ করেছে বাংলাদেশ। এখন এলডিসি থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দেশ। ২০২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর হবে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার নির্ধারিত অগ্রগামী বাংলাদেশ।

যদিও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে উদ্ভূত সংকট সেই উন্নয়ন অভিযাত্রায় অব্যাহত অর্জনে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কৌশল নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি ব্যয় বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে অর্থনীতির চাহিদা বাড়বে, অন্যদিকে উৎপাদন উপকরণের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শানিত করবে। কোভিড-১৯ মহামারীর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আগামীতে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারীর মধ্যেই ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়

গত অর্থবছরের চেয়ে ১৬৩ ডলার বেড়েছে। ফলে এ বছর মাথাপিছু আয় হয়েছে ২ হাজার ২২৭ ডলার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ডলারের মূল্য স্থিতিশীল থাকায় মাথাপিছু আয় বেড়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ১৪ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৪৬২ ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আরও বাড়িয়ে ২ হাজার ৭১৭ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে স্বল্প-উন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কোভিড-১৯ আসার আগে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালে এই দল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত ছিল। সিডিপির ২০২১ পর্যালোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য তিনটি মানদ-ে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। তা হলো মাথাপিছু আয় এক হাজার ৮২৭ ডলার (প্রয়োজন এক হাজার ২২২ ডলার), অর্থনৈতিক দুরবস্থা সূচক ২৭ (প্রয়োজনীয় ৩২ বা নিচে) এবং মানবসম্পদ সূচক ৭৫ দশমিক চার (প্রয়োজন ৬৬ বা তার বেশি)।

জানা গেছে, এলডিসি থেকে বের হয়ে আসার পর সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্য বাজারভিত্তিক ঋণ গ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত হবে। তুলনামূলকভাবে উচ্চপর্যায়ের উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠবে। বেসরকারি খাতে বাইরের ঋণ বাড়বে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর জানান, ২০২৬ সালের পর দেশ যেহেতু এলডিসির তালিকা থেকে বের হওয়ার গৌরব অর্জন করবে, তাই পলিসি গ্রহণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদের গতিশীলতা আনার জন্য পরিকল্পনার ওপর জোর দিতে হবে।

advertisement