advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢামেক থেকে রোগী ভাগিয়ে নিত ওরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:০৮
advertisement

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২৪ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দ-প্রাপ্তরা হলেন- মো. আলমগীর হোসেন, জামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর হোসেন, রাসেল হোসেন, মিজানুর রহমান, টুটুল, মামুন, আলাউদ্দিন সবুজ, শাহ আলম, আমির হোসেন, নুরুল আমিন, মিন্টু মিয়া, ওসমান গনি, সুধাংশু ম-ল, ফরহাদ খান, রাইসুদ্দিন, জামাল হোসেন, হৃদয় হাওলাদার, ফাহিম, হৃদয়, মামুন, বিল্লাল ঢালী ও মো. শাহিন আনাম রকি। ঢামেক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, কোভিড ভবন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে তাদের আটক করে র‌্যাব ৩-এর গোয়েন্দা টিম। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। তিনি জানান, দ-প্রাপ্ত ২৪ জন ঢামেক হাসপাতালে আসা নিরীহ রোগীদের

সরকারি হাসপাতালের চেয়েও কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও খ্যাতনামা অধ্যাপকদের দিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সুব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত। সুনির্দিষ্ট এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ঢামেকে অভিযান পরিচালনা করে ওই ২৪ জনকে আটক করা হয়। তারা অপরাধ স্বীকার করায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতাল-১ ও ২ এবং বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটকে ঘিরে সংঘবদ্ধ দালালচক্র গড়ে উঠেছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ দালাল চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ছোট-বড় ও নামসর্বস্ব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড, সিøপপ্যাড ইত্যাদি নিয়ে ঢামেকের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওটি, আইসিইউ, ওয়ার্ড এবং কেবিনের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিরীহ, দরিদ্র ও অসহায় যাদের বেশিরভাগ গ্রাম থেকে আসেন, চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তাদের টার্গেট করে আপনজনের মতো ব্যবহার করে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। টার্গেট করে। অনেক সময় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যায় এসব দালাল। আবার তারা ঢামেক হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এসব দালাল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে দ্রুত রিপোর্ট করিয়ে দেওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের কাছে গিয়ে অল্প টাকায় ভালো অধ্যাপক দিয়ে দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রলোভন দেখায়। অনেক সময় না বুঝে ফাঁদে পা দিয়ে তাদের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কম টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হয়ে ফেঁসে যান। এই দালালদের মাধ্যমে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা এ দালালচক্রের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। দালালচক্রের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়ে হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দেন তারা। যদিও অভিযানের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দালালদের সঙ্গে হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দালাল থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বলেন, আপনারা এসে সরাসরি হাসপাতালে রোগী দেখাবেন। কারণ যেসব বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যায় দালালরা, সেখানে চিকিৎসাসেবার মান অত্যন্ত নিম্ন। ভালো চিকিৎসা পায়নি বলে অনেক ভুক্তভোগী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অভিযোগ করেছেন। যেসব বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢামেকসহ অন্যান্য হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আশরাফুল আলম জানান, এ ধরনের অভিযানের ফলে হাসপাতালের কার্যক্রমের গতিশীলতা আরও বাড়বে। দালালচক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো কর্মচারী কিংবা কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওয়ার্ডে প্রবেশ করে রোগীর স্বজনদের হয়রানি, আটক ৫ নারী

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধভাবে প্রবেশ করায় পাঁচ নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আটককৃতরা হলেন- শাহানাজ আক্তার, তাসলিমা, সাথী, ইয়াসমিন ও তাসলিমা বেগম। গতকাল দুপুরে আনসার বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন।

২১২ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মাস্টার কাজী আবু সাইদ জানান, এই ওয়ার্ড থেকে ঢামেক পরিচালকের নির্দেশে ওই পাঁচ নারীকে আটক করেন আনসার সদস্যরা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হচ্ছে।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক জানান, আটকরা এ হাসপাতালের কোনো কর্মচারী না হয়েও অবৈধভাবে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করে রোগীদের হয়রানি করছিলেন। হাসপাতালে অবৈধ প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

advertisement