advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভুয়া এলসি খুলে ৫২৫ কোটি টাকা পাচার
প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ

১১ জুন ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ২৩:৩২
advertisement

দেশ থেকে অর্থপাচার যে অব্যাহত আছে তা নানাভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে। শুধু অব্যাহত আছে তা-ই নয়, যে হারে অর্থপাচার হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গতকাল আমাদের সময়ে ছদ্মনামে ভুয়া এলসি খুলে ৫২৫ কোটি টাকা পাচারের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে ৫২৫ কোটি টাকার এলসি করেছিলেন বিল্লাল হোসেন। এ ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন), ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প-কারখানার কাগজপত্র ইত্যাদিও করিয়েছেন। এলসির নথিপত্র অনুযায়ী তার নাম সুরুজ মিয়া। যদিও এটি তার প্রকৃত নাম নয়। শুধু তা-ই নয়; পরিচয়পত্র, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্সগুলোও ভুয়া, যা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তৈরি করেছেন। উপরন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি যে নম্বরটি উল্লেখ করেছেন, সেটি কোনো পুরুষেরই নয়, নারীর। বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর ধাপে ধাপে উঠে এসেছে জালিয়াতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কীভাবে অর্থপাচার হয়েছে- এসবের চাঞ্চল্যকর তথ্য। শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পোলট্রিশিল্পের যন্ত্রপাতির নামে একে একে ৯০ কনটেইনার ভর্তি করে এনেছেন মদ, সিগারেটসহ উচ্চ শুল্কের পণ্য। এসব পণ্যের আমদানিতে শুল্ক দেওয়ার কথা ৬০১ শতাংশ হারে। তবে তিনি পোলট্রিশিল্পের যন্ত্রপাতি হিসেবে শুল্ক দিয়েছেন মাত্র ১ শতাংশ। অন্যদিকে শিল্পের উচ্চমূল্যের মেশিনারিজ আমদানি করে বিশাল অঙ্কের অর্থপাচার করেছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, অর্থপাচার রোধের ব্যাপারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে না পারলে অর্থ দেশে রাখার ব্যাপারে সম্পদশালীরা আস্থা ফিরে পাবে না। আর টাকা পাচার একটি বৈশ্বিক প্রবণতা হলেও দরিদ্র ও ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশের পক্ষে এর দায় বহন করা দুরূহ। তাই অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের পথ রুদ্ধ করার পাশাপাশি বিদেশে টাকা ও অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।

advertisement