advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মা-বাবা-বোনকে হত্যা : রিমান্ডে মেহজাবিন

আদালত প্রতিবেদক
২০ জুন ২০২১ ১৭:২১ | আপডেট: ২০ জুন ২০২১ ২০:৪৭
advertisement

রাজধানীর কদমতলীতে মা, বাবা ও বোনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসাইন এ আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মুনের বাবা মাসুদ রানা দীর্ঘ ২৬ বছর যাবৎ সৌদি আরব থাকতেন। মাঝে মধ্যে তিনি দেশে আসতেন। মাসুদ রানা তার মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুনকে বিয়ে দেন শফিকুল ইসলাম অরন্য নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। এরপর থেকে মুন সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য তার মা মৌসুমি ইসলামকে বিভিন্নভাবে জ্বালা-যন্ত্রণা ও টাকা-পয়সা দাবি করতেন। সম্পত্তি আসামিদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার কারণে মুন এবং তার স্বামী অরন্য ৬ মাস আগে থেকে মাসুদ রানা, তার স্ত্রী মৌসুমি এবং মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম মোহনীকে মারার জন্য বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করতে থাকেন। মাসুদ রানা তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা গত ১৮ জুন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মাসুদ রানার বাসায় আসেন। মাসুদ রানা দম্পতি সবকিছু ভুলে আসামিদের বাসায় থাকতে দেন। গত ১৮ জুন রাত ৯টা থেকে বিভিন্ন সময়ে চা-কফি ও পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মাসুদ রানা, মৌসুমি ইসলাম এবং মোহনীকে তা পান করায়। এতে সবাই অচেতন হয়ে গেলে আসামিরা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে একে একে সবার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন মামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য প্রদান করেছে। তবে কি কারণে, কেন? কী উদ্দেশ্যে মুন তার বাবা-মা, বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কিনা তা জানার জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

এর আগে গত ১৯ জুন রাজধানীর কদমতলী থানার মুরাদপুরের হাইস্কুল রোডের একটি বাসা থেকে মাসুদ রানা, মৌসুমি ইসলাম এবং মোহনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মাসুদ রানার বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন মেহজামিন ইসলাম মুন এবং তার স্বামী শফিকুল ইসলাম অরন্যকে আসামি করে কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি শফিকুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

advertisement