advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

রাজনৈতিক আধিপত্যের আকাক্সক্ষায় চাপের মুখে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২২ জুন ২০২১ ২৩:৪২
advertisement

একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের আকাক্সক্ষা থেকেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই চাপ মোকাবিলা করে সৎসাহস ও নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিতের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা। গতকাল মঙ্গলবার ‘করোনাকালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় এসব কথা জানানো হয়।

আলোচনায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল বিষয় জিরো সাম গেম অর্থাৎ জিততেই হবে বা ক্ষমতায় থাকতেই হবে। এ জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হবে, তাকে ধরাশায়ী করতে হবে। আর এই কাজটা যখন সাফল্যের সঙ্গে বা তুলনামূলক সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয় তখন বাকি থাকে নাগরিক সমাজের একাংশ এবং গণমাধ্যম। যারা কথা বলে, যারা লেখে, যারা সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে চায়। সহায়ক ভূমিকা পালনের এই প্রয়াসকে সরকারের একাংশ শত্রু হিসেবে দেখে।’

গণমাধ্যমের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বাইরের দুই ধরনের ঝুঁকি আছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখার বলেন, গণমাধ্যম নিজেরা কতটুকু সুশাসিত সেটাও কিন্তু বিবেচ্য বিষয়। সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান এককভাবে ও সামষ্টিকভাবে যদি নৈতিকতার চর্চা করে,

তবে অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির যে কথা বলা হয়, সেটা অনেকটা প্রশমন করা সম্ভব। তবে রাজনীতি একচ্ছত্র হয়ে গেলে গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রবল হয়। এ সুযোগে সরকারের দোসর হিসেবে গণমাধ্যমের একটি অংশ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর এসবের বাইরে আরেকটি শাখা প্রতিকূলতার মধ্যেও অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যায়।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন গবেষক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এখন আর নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন না। কোভিড বিষয়ে চুরি নিয়ে সব সাংবাদিকতা হচ্ছে, কিন্তু কোনো কাঠামোগত বিশ্লেষণ খোঁজা হচ্ছে না। এ সময়ে এসে নতুন পর্যায়ের সাংবাদিকতায় যেতে হবে। শুধু চুরি হওয়ার খবর নয়, কেন চুরি হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে সেটার কারণ খুঁজতে হবে।

সভা থেকে কোভিড-১৯ বিষয়ক বিশেষ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারের জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের তিনজন গণমাধ্যমকর্মীর নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ পাঠ করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, বেসরকারি সংগঠন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালিক, যশোরের গ্রামের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মহিবুল ইসলাম প্রমুখ।

advertisement